বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বাজেট প্রতিক্রিয়া
জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২১:৫৭
নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটে 'সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা' রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সাইফুল হক মন্তব্য করেন, বিশাল ঘাটতি পূরণ এবং রাজস্ব সংগ্রহই হবে এই বাজেট বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ। তার মতে, মূল্যস্ফীতি রোধ করা না গেলে প্রবৃদ্ধির কোনো ইতিবাচক প্রভাব জনকল্যাণে আসবে না। এছাড়া, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ যোগাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বাজেটের আকার ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সাইফুল হক বলেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সমাজে নানা অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তবে বিশাল অংকের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরই পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরতা বেড়ে যাবে। টাকার অংকে বাজেটের আকারে বড় উল্লম্ফন ঘটলেও, এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। কারণ, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের উপরই প্রধানত বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে। তিনি মনে করেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, করদাতাদের আওতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা দেখাতে পারলে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়।
প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি
বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় জিডিপির ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা তেমন উচ্চাভিলাষী নয়। তিনি মূল্যস্ফীতিকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনাকে বাস্তবানুগ হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো খতিয়ানই জনকল্যাণে কাজে আসবে না।
বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা
তিনি বলেন, বাজেটে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগেই যথাসম্ভব প্রণোদনা যোগানো প্রয়োজন। বন্ধ কলকারখানা চালু ও উৎপাদনমুখী শ্রমঘন নতুন শিল্পোদ্যোগ হওয়া উচিত বাজেটের মনোযোগের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। তিনি ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীতে বাজেট প্রস্তাবনাকে ইতিবাচক আখ্যা দিলেও মনে করেন, এসব প্রকল্প আখেরে দারিদ্র্য বিমোচন ঘটাবে না। তার জন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থানের উৎপাদনশীল বহুমুখী উদ্যোগ।
বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কালো টাকা
সাইফুল হক বলেন, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটে আশাব্যঞ্জক প্রস্তাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব তৎপরতা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ জোগাবে।
গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ
তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন এবং শিল্প ও কৃষির মতো মৌলিক খাতগুলোতে বর্ধিত বরাদ্দ প্রদানের আহ্বান জানান।
- বিষয় :
- বাজেট
- প্রতিক্রিয়া
