ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার

মানসিক অসুস্থতায় হারিয়ে গিয়েছিলেন ষষ্ঠী: পরিবার

মানসিক অসুস্থতায় হারিয়ে গিয়েছিলেন ষষ্ঠী: পরিবার
×

উদ্ধার হওয়া ছষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২০:৫৮

অন্তত আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ থাকা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণের (৬৫) সন্ধান মিলেছে জামালপুর সীমান্তে। বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইনের’ শিকার হিসেবে উদ্ধার হওয়া এই বৃদ্ধকে আনতে বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুরে গেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। 

পারিবার জানিয়েছে, ১৫ দিন আগে কুড়িগ্রাম সীমান্তে তাঁকে দেখা যাওয়ার খবর পেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে সেবারও হারিয়ে যান। পরিবার যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল, তখন দেশের আলোচিত এ সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে মিলেছে তাঁর সন্ধান।

প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাঁকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয় বিজিবি। পরে বিজিবি নিশ্চিত করে, ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন একজন বাংলাদেশি নাগরিক। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন পেশায় মৎস্যজীবী ও কৃষক ছিলেন। দুই স্ত্রীর এক ছেলে ও তিন মেয়ের পিতা তিনি। সন্তানদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মাছ ধরা আর কৃষিকাজ করেই চলছিল তাঁর জীবন।

তবে গত দুই বছর ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। একসময়ের কৃষি শ্রমিক ষষ্ঠী কোনো কাজ করতেন না। দুই বছর ধরে তিনি মানুষের বাড়িতে চেয়ে খেতেন আর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। আড়াই মাস আগে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবার আশা করেছিল ফিরে আসবেন, কিন্তু আসেননি। কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরিবারের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ট্রেনে চড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন। এরপর কীভাবে তিনি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন, তা জানা যায়নি।

গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী বলেন, পরিবারটি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পায়নি। পরে সংবাদমাধ্যমে দেখে নিশ্চিত হন।

সন্ধান পাওয়ার পর তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন বকশীগঞ্জের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার রওনা দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রহর গুনছে পরিবার।

ষষ্ঠীর ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের ছেলে গোপাল চন্দ্র বর্মন সমকালকে বলেন, ‘১৫ দিন আগে কুড়িগ্রামে একবার ছিলেন। এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জেনে ফোন করেছিলাম। পরে ওই সাংবাদিক জানান তিনি ঢাকায় আছেন। এরপর ফোন করে আর পাইনি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ইন্ডিয়াতে যাননি, বাংলাদেশেই ছিলেন। হয়তো ভুল করে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সে বুঝতে পারেনি এটা ইন্ডিয়ার সীমান্ত। উনার মানসিক অসুখ রয়েছে। আগে ভালো কাজ করতেন, দুই বছর ধরে আর কাজ করেন না। মানুষের বাড়িতে চেয়ে চেয়ে খান।’ 

তিনি বলেন, সন্ধান পাওয়ার পর আমার বাবা ভবানী চন্দ্র আর উনার মেয়েজামাই গৌর বর্মন গেছেন জামালপুরে। তারা জামালপুর থেকে উনাকে নিয়ে রওনা দিয়েছেন। এখনো বাড়ি পৌঁছাননি। 

আরও পড়ুন

×