ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে বড় কর ছাড়, বাড়ল আরও সুবিধা

ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে বড় কর ছাড়, বাড়ল আরও সুবিধা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২০:২৯

পরিবেশ দূষণ রোধে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) ব্যবহার বৃদ্ধিতে আমদানি শুল্কে ৩৬ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয়ভাবে গাড়ি তৈরির শিল্প গড়ে তুলতে এই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হলেও, ইভির চার্জি স্টেশনের শুল্ক ৩৯ দশমিক ৭৫ থেকে একেবারে শূন্য করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধন, বার্ষিক নবায়ন এবং আগাম আয়করও হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে।

গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া সব ধরনের শুল্ক মওকুফ সুবিধা ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনে কোনো প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক বাস আমদানি করলে কোনো কর দিতে হবে না। 

আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, তেল ও গ্যাসচালিত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সবুজ অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমদানিতে বড় কর ছাড়

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৫ হাজার ডলার মূল্যমানের ইভি আমদানিতে কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ হবে। ৫০ হাজার ডলার মূল্যমানের গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর হার হবে ৮০ শতাংশ।
প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও সম্পূরক শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ির কর ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন ফি ও বার্ষিক কর হ্রাস

আগে সব ধরনের ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও বার্ষিক নবায়নের জন্য দুই লাখ টাকা আগাম আয়কর দিতে হতো। আগামী বাজেটে গাড়ির মোটরের ক্ষমতার (কিলোওয়াট) ভিত্তিতে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত মোটরের গাড়ির জন্য এখন বার্ষিক আগাম আয়কর দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় শিল্পে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সুবিধা
দেশেই যাতে ইভির কারখানা গড়ে উঠে, এ লক্ষে উদ্যোক্তাদের শুল্ক-কর রেয়াত দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা দেশে তিন চাকা বা চার চাকার ইলেকট্রিক গাড়ির বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং সংযোজন করবে, তারা এই সুবিধা পাবেন। এই কর ছাড় ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×