ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে ৪০ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে ৪০ হাজার কোটি টাকা
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২১:৩০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ২১:৪৬

বিগত রাজনৈতিক সরকারের সময়ের অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে দুর্বল হওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে চলতি অর্থবছর ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এর মধ্যে দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণে ২০ হাজার কোটি টাকা এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীর অর্থ ফেরতসহ দুর্বল ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা আলাদা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, দুর্বল ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের জন্য চলতি অর্থবছর সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত হবে; যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সময়ে অনিয়ম-জালিয়াতিতে খারাপ অবস্থায় পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্যাংকটিতে এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে আরও অর্থ দিতে পারে সরকার। এর বাইরে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগপ্রবাহ সচল রাখতে সরকারের মধ্যমেয়াদি কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতপশিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করা হচ্ছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনিয়ম জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অনেকেই দেশত্যাগ করেছেন। নানা নীতি সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এসব কারণে খেলাপি ঋণ দ্রুত বেড়ে গত মার্চ শেষে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় উঠেছে, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অবশ্য গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা যা ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে বিশেষ নীতি সহায়তা, আদায় জোরদারসহ বিভিন্ন উপায়ে বছরের শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমিয়ে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নামানো হয়।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরও বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়িয়ে নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমানো এর লক্ষ্য। করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন চলমান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×