রপ্তানি বিলিয়ন ডলারে নিতে উদ্যোগ চান বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্যোক্তারা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫৬
বর্তমানে বহুমুখী পাটপণ্যের বার্ষিক রপ্তানি ২০৩০ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন, কর-শুল্ক সুবিধা, দক্ষ জনবল এবং বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তারা মনে করেন, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এই খাতে এক হাজার উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ জুট ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাশেদুল করীম মুন্নার নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল।
সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উদ্যোক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানির বড় অংশ কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও প্রচলিত পাটপণ্যনির্ভর। ফলে উচ্চ মূল্য সংযোজিত ও বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।
তাদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক তন্তুজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে নতুন পণ্য উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
উদ্যোক্তারা বহুমুখী পাটপণ্যের জন্য পৃথক বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকারি তহবিলের পাশাপাশি জলবায়ু উন্নয়ন তহবিল, গ্রিন ফাইন্যান্স ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পৃথক অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
রপ্তানিকারকদের কর-শুল্ক কমানোর বিষয়েও একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নে ট্যাক্স রিবেট, আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের ব্যয়ে ম্যাচিং সুবিধা, রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ১ শতাংশ উৎসে কর এবং কাঁচামাল ক্রয়ে ০.৫০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য। নগদ সহায়তা থেকে পাওয়া অর্থের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার এবং রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ আমদানিতে কর-ভ্যাট সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব করেন উদ্যোক্তারা।
এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বিশেষায়িত কম্পোজিট জুট মিল স্থাপন এবং ছোট কারখানাগুলোকে নিয়ে ‘জুট ডাইভার্সিফাইড প্রোডাক্টস’ (জেডিপি) ক্লাস্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০০ উদ্যোক্তার জন্য প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দক্ষ জনবল তৈরিতে দুটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সঙ্গে সমঝোতা এবং পণ্য উন্নয়ন ও নকশায় দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজাইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুপারিশ করেন তারা।
বাজার সম্প্রসারণে ঢাকায় চারটি এবং দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন উদ্যোক্তারা। আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে আর্থিক সহায়তা, অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সরকারি ক্রয়ে পাটপণ্য ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং বহুমুখী পাটপণ্যের জন্য পৃথক এইচএস কোড চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা বলেন, এসব প্রস্তাব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্যোক্তাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেডিপিসিকে আরও কার্যকর করতে জনবল ও বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।