বিশেষজ্ঞ মত
আগামীতে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে
ড. মাসরুর রিয়াজ
ড. মাসরুর রিয়াজ
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে অব্যাহত চাপ সামগ্রিক ব্যবসায়িক গতি দুর্বল করে দিচ্ছে। গত দুই মাসে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (পিএমআই) বলছে, উৎপাদন, সেবা ও নির্মাণ খাতে চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি সংকট ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে উৎপাদন খাত। এ খাতে নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানি ক্রয়াদেশ এবং উৎপাদন– সবই দুর্বল হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের সাম্প্রতিক চিত্রও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি আগস্টের প্রায় ৪৪২ কোটি ডলার থেকে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ৩৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ ব্যবসা ও ভোক্তা– উভয়ের ওপরই অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল করতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল, পরিবহন ও পরিচালনার জন্য বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংকোচনকে পুরো বছরের প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। সারা বছর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে কমেনি। বরং বছরের শুরুতে তুলনামূলক ভালো প্রবৃদ্ধির পর ধীরে ধীরে গতি কমেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচক এখনও সহায়ক অবস্থায় রয়েছে। সেপ্টেম্বরে রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি ছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ মাসভিত্তিক হিসাবে বৈদেশিক চাহিদা দুর্বল হলেও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধস নামেনি।
আগামী দিনের বিষয়ে পিএমআইয়ে সুস্পষ্ট নিম্নগতির পরিবর্তে সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। চারটি খাতেই ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রত্যাশা ইতিবাচক রয়েছে। মৌসুমি চাহিদা ও নতুন ক্রয়াদেশ বাড়ার প্রত্যাশা এ আশাবাদকে সমর্থন করছে। সামগ্রিকভাবে, পিএমআইর চিত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বল্পমেয়াদে দুর্বল চাহিদা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার চাপে রয়েছে। তবে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়লে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে, অর্থায়ন সহজ হলে এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমলে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
লেখক : চেয়ারাম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ
- বিষয় :
- বিশেষজ্ঞ মত