ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

টুথপিক ও স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: এনবিআর

টুথপিক ও স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: এনবিআর
×
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

টুথপিক ও স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উন্মোচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রামের কাস্টম হাউস। গতকাল শনিবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইসি ও কাস্টম হাউস যৌথভাবে কনটেইনারগুলোর সিল কেটে কায়িক পরীক্ষা চালালে জালিয়াতির চিত্র বের হয়ে আসে। এ কারণে আটটি বড় জালিয়াতির ঘটনায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআর জানিয়েছে, ঢাকার নিউমার্কেটের আমদানিকারক ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। মেশিনের বদলে কনটেইনারে ছিল স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, বিভিন্ন ধরনের এলইডি লাইট, সানগ্লাস এবং ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু। ঘোষিত ওজনের চেয়ে এক হাজার ৮১৭ কেজি পণ্য বেশি। এতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। 

পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশন চীন থেকে সাড়ে ২২ টন সাধারণ টুথপিক আনার ঘোষণা দিলেও পাওয়া গেছে মাত্র এক হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক। বাকি ১৫ দশমিক ৭ টনের জায়গায় ছিল ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত এবং বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ পাকিস্তানি গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, প্রিমিয়াম সানগ্লাস এবং যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে। এক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়ার রাজস্বের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ঢাকার এইচ আর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি কম শুল্কের ইঞ্জিন রাবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে এনেছে মাত্র ছয় হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি প্রায় ১৩ হাজার কেজির পুরোটাই ছিল অরিজিনাল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো দামি মোটরপার্টস। এখানে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।

নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিয়ে এনেছে তিন হাজার ১৬০ কেজি। কনটেইনারের বাকি ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার। এখানে ফাঁকির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা।

মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সক্যাভেটর গিয়ারের ঘোষণা দিয়ে এনেছে তিন দশমিক ৮ টন। বাকি ২২ হাজার ১১৩ কেজি উচ্চ শুল্কের নাট-বোল্ট ও স্ক্রু এনে ৩২ লাখ টাকা রাস্ব ফাঁকি দিয়েছে। একই কায়দায় নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বোল্ট, দুই হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বিয়ারিং এবং দুই হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফ্ট সিলিন্ডার এনে ৪২ লাখ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। 

আরও পড়ুন

×