জন্মদিন
একজন বহুমুখী প্রতিভাধারী
×
ডা. এমএ হাসান
মো. অহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৮
বিশিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. এমএ হাসানের ৭০তম জন্মদিন আজ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে যে কাজ তিনি শুরু করেন, তা বহুমুখী হয়েছে বয়সের নানা স্তরে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, মহাজাগতিক বিস্ম্ফোরণ, মহাকর্ষীয় বল, জীবনকণা, জীবনের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে তার ব্যাপক কাজ রয়েছে। '৬৯-এর গণআন্দোলনের সময়টাতে জনপ্রতিরোধ ও যুদ্ধের প্রস্তুতিকে তিনি নিয়ে যান জয়দেবপুর আর্মস ফ্যাক্টরির কাছে পাঁজুরিয়া গ্রামে। এ কারণে তাকে পাকিস্তানি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয় এবং তার বন্ধু ডা. সাকলায়েনকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদ মোকাবিলা করতে হয়। ডা. হাসান ও তার ভাই শহীদ লে. সেলিম ২৫ মার্চ '৭১-এ ঢাকার তেজগাঁও সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরে অবস্থান নেওয়া এক প্লাটুন পুলিশ নিয়ে মেডিকেল স্টোর, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সার্ভে অফিস ও সাতরাস্তার মোড় এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তিনিই ১৯৭১-এর অক্টোবরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের একটি কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে আখাউড়া যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৪ ডিসেম্বর '৭১-এ তিনি মিত্র বাহিনীকে ডিঙিয়ে একটি সেনা দল নিয়ে সর্বপ্রথম ঢাকার গুলশানে প্রবেশ করেন। স্বাধীনতার পরপরই সামরিক বাহিনী থেকে ইস্তফা দেন ডা. এমএ হাসান। ফিরে আসেন তার পড়াশোনা ও পুরোনো পেশায়। শহীদ পরিবারের সদস্য হওয়ায় নানা দায়িত্ব আসে তার ওপর। এরপরও বিজ্ঞান ও মানবাধিকার নিয়ে তার কাজ থেমে থাকেনি। সেই থেকে তিনি পাকিস্তানি সেনা সংগঠিত যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতন বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে যে উদ্যোগ নেন, তা তিনি চলমান রাখেন ২০০৮ পর্যন্ত এবং ২০০৮-এর ৪ এপ্রিল ১৭৭৫ জন অভিযুক্ত অপরাধীর তালিকা প্রকাশ করে বিচারের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ২০০১ সালের ২৭ ও ২৯ মার্চ এবং ৪ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতন বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন ডা. হাসান। ১৯৯০ থেকে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচারের পক্ষে মতামত গড়ে তোলেন তিনি। এই সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তিনি 'ওয়ার ক্রাইম্স ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক ১৯৯৫ থেকে বায়ুদূষণ, অ্যাজমা ও আর্সেনিক নিয়ে যে কাজ করেন, তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় ইউএনইপি ও ডব্লিউএইচও দ্বারা। অ্যাজমা চিকিৎসায় তার চিকিৎসা পদ্ধতি নানা দেশে অনুসরিত হচ্ছে। আমেরিকার সুবিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ'-এর প্রধান ডা. এন্থনি তাকে এইডস সংক্রান্ত গবেষণায় যেমন সম্পূক্ত করেছেন, তেমনি ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের প্রধান তাকে হোচি মিন সিটির বারোজ ওয়েলকাম ল্যাবের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন।
১৯৯৭-২০০২-এ হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি বিশ্বের যে ২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছিল, ডা. হাসান তাদের অন্যতম। ইইউর সহায়তায় তিনি 'ট্রুথ কমিশন ফর জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডা. হাসান আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধে তার উদ্ভাবিত নানা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। দূষণের কারণ হিসেবে জলাবদ্ধতা ও অণুজীবের ভূমিকা তিনিই প্রথম শনাক্ত করেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি একদিকে যেমন অ্যালার্জি ও অ্যাজমার ওপর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্টাডি চালিয়েছেন, অন্যদিকে করোনাভাইরাস ও এইডস ভাইরাসের ওপর কাজ করেছেন। ডা. হাসান রচিত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ২০টি। লন্ডনের নিউ মিলেনিয়াম কর্তৃক প্রকাশিত- 'বিয়ন্ড ডিনাইল দি ইভিড্যান্স অব অ্যা জেনোসাইড' তার অন্যতম গ্রন্থ।
২০০৪ ইউনেস্কোর সমর্থন নিয়ে ২৫ মার্চকে 'ইন্টারন্যাশনাল ডে অব রেজিট্যান্স এগেইনস্ট ওয়ার অ্যান্ড ক্রুয়েলিটি' হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা।
গবেষক
তিনিই ১৯৭১-এর অক্টোবরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের একটি কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে আখাউড়া যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৪ ডিসেম্বর '৭১-এ তিনি মিত্র বাহিনীকে ডিঙিয়ে একটি সেনা দল নিয়ে সর্বপ্রথম ঢাকার গুলশানে প্রবেশ করেন। স্বাধীনতার পরপরই সামরিক বাহিনী থেকে ইস্তফা দেন ডা. এমএ হাসান। ফিরে আসেন তার পড়াশোনা ও পুরোনো পেশায়। শহীদ পরিবারের সদস্য হওয়ায় নানা দায়িত্ব আসে তার ওপর। এরপরও বিজ্ঞান ও মানবাধিকার নিয়ে তার কাজ থেমে থাকেনি। সেই থেকে তিনি পাকিস্তানি সেনা সংগঠিত যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতন বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে যে উদ্যোগ নেন, তা তিনি চলমান রাখেন ২০০৮ পর্যন্ত এবং ২০০৮-এর ৪ এপ্রিল ১৭৭৫ জন অভিযুক্ত অপরাধীর তালিকা প্রকাশ করে বিচারের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ২০০১ সালের ২৭ ও ২৯ মার্চ এবং ৪ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতন বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন ডা. হাসান। ১৯৯০ থেকে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচারের পক্ষে মতামত গড়ে তোলেন তিনি। এই সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তিনি 'ওয়ার ক্রাইম্স ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক ১৯৯৫ থেকে বায়ুদূষণ, অ্যাজমা ও আর্সেনিক নিয়ে যে কাজ করেন, তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় ইউএনইপি ও ডব্লিউএইচও দ্বারা। অ্যাজমা চিকিৎসায় তার চিকিৎসা পদ্ধতি নানা দেশে অনুসরিত হচ্ছে। আমেরিকার সুবিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ'-এর প্রধান ডা. এন্থনি তাকে এইডস সংক্রান্ত গবেষণায় যেমন সম্পূক্ত করেছেন, তেমনি ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের প্রধান তাকে হোচি মিন সিটির বারোজ ওয়েলকাম ল্যাবের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন।
১৯৯৭-২০০২-এ হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি বিশ্বের যে ২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছিল, ডা. হাসান তাদের অন্যতম। ইইউর সহায়তায় তিনি 'ট্রুথ কমিশন ফর জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডা. হাসান আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধে তার উদ্ভাবিত নানা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। দূষণের কারণ হিসেবে জলাবদ্ধতা ও অণুজীবের ভূমিকা তিনিই প্রথম শনাক্ত করেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি একদিকে যেমন অ্যালার্জি ও অ্যাজমার ওপর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্টাডি চালিয়েছেন, অন্যদিকে করোনাভাইরাস ও এইডস ভাইরাসের ওপর কাজ করেছেন। ডা. হাসান রচিত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ২০টি। লন্ডনের নিউ মিলেনিয়াম কর্তৃক প্রকাশিত- 'বিয়ন্ড ডিনাইল দি ইভিড্যান্স অব অ্যা জেনোসাইড' তার অন্যতম গ্রন্থ।
২০০৪ ইউনেস্কোর সমর্থন নিয়ে ২৫ মার্চকে 'ইন্টারন্যাশনাল ডে অব রেজিট্যান্স এগেইনস্ট ওয়ার অ্যান্ড ক্রুয়েলিটি' হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা।
গবেষক
- বিষয় :
- জন্মদিন
