আলোচনা সভায় বক্তারা
ছানিজনিত অন্ধত্ব কমাতে প্রয়োজন আগাম শনাক্তকরণ
বছরে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি নতুন রোগী
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৭:৪২
দেশে প্রতিবছর ছানিজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে প্রতি বছর অন্ধত্ব সৃষ্টিকারী ছানির নতুন রোগী যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর মধ্যে ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য অথচ অস্ত্রোপচারবিহীন জন্মগত ছানিতে ভুগছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস–২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্ল্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মইনউদ্দিন। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ২ হাজার ২০০–এর বেশি হলেও দক্ষ ছানি সার্জনের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ২০০। ছানি সার্জন তৈরির জন্য দেশে মাত্র ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
ডা. মইনউদ্দিন বলেন, একজন সার্জনের ওপর যদি এক হাজার রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তাহলে রোগীর জমে থাকা চাপ (ব্যাকলগ) কমানো সম্ভব নয়। প্রতিরোধযোগ্য এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বক্তারা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্বে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও বাংলাদেশে এ হার ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাকেন্দ্রিক হয়ে থাকায় রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে ঘাটতি রয়েছে।
ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন বলেন, রোগ জটিল পর্যায়ে যাওয়ার আগে শনাক্ত করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা দেশে এখনও গড়ে ওঠেনি। আমরা চাই চিকিৎসাব্যবস্থাকে ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক থেকে প্রিভেনশন ও প্রমোশন সেন্ট্রিকে রূপান্তর করতে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বয়স্কদের চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তারা ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা ছানির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিএসসিআরএস থেকে জানানো হয়, জুন মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম, বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা ও জনসম্পৃক্ত নানা কর্মসূচি চলবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে জাতীয় প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
- বিষয় :
- আলোচনা সভা
- চোখ
