ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিরোধী দল কেন মন্ত্রণালয়কে ১ টাকা বরাদ্দ দিতে চায় 

বিরোধী দল কেন মন্ত্রণালয়কে ১ টাকা বরাদ্দ দিতে চায় 
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৭:০৮

আগামী অর্থ বছরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ মঞ্জুরে সংসদে দাবি তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিরোধীদলের ৩২ জন সংসদ সদস্য (এমপি) এই ব্যয় কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন। তিনজন এমপি  ১০০ টাকা ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা মঞ্জুরের দাবি করেন মন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিরোধীদলের ২৪ এমপি রাষ্ট্রপতিকে ১ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। ৪৪০ টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করেন এক এমপি।
 
সরকারের ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় নির্বাচনে মন্ত্রীদের যত দাবি রয়েছে, এর সবগুলোতেই ব্যয় কমিয়ে ১ টাকা করা বা ১০০ টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করেছে বিরোধীদল। যা মোট ব্যয়ে তুলনায় নগণ্য। বিরোধী দল যেসব প্রস্তাব করে তা আসলে প্রতীকী। ব্রিটিশ সংসদীয় রীতি থেকে এই প্রস্তাব করা হয়।   

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে প্রধানত তিন ধরনের ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। এগুলো হলো পলিসি কাট, ইকোনমি কাট এবং টোকেন কাট। বাংলাদেশের সংসদেও একই রীতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশে ছাঁটাই প্রস্তাবে, বিরোধী দলগুলো যেসব প্রস্তাব করে, এগুলো হলো; নীতি অনুমোদন ছাঁটাই, মিতব্যয় ছাঁটাই এবং প্রতীক ছাঁটাই। সরকারি দলের বাজেটের প্রতিবাদে বিরোধী দল এসব প্রস্তাব করে।

সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে। ফলে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব পাস হওয়ার সুযোগ নেই। তাই বিরোধী দল প্রতিবাদের রেওয়াজ হিসেবে প্রতীকী ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব করে। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ থেকেই এ রীতি চলে আসছে। 

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আলঙ্কারিক হলেও, সংসদের মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপ্রধানকে মঞ্জুরি দেওয়ার দাবি করেন। ফলে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে ব্যয়ের ক্ষমতা দিলেও, আদতে তা খরচ করে সরকার। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রসিকতা করে বলেছিলেন, 'সংসদে বলা হয় রাষ্ট্রপতি এত হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করা হোক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সই দেওয়ার সেই টাকা চলে যায় মন্ত্রীর কাছে'। 

যুক্তরাজ্যে সংসদীয় রীতিতে মন্ত্রীরা সংসদে মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের জন্য মঞ্জুরি প্রস্তাব দেওয়ার পর বিরোধী দল, সরকারের কাজের প্রতি ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশে টোকেন বা প্রতীকী ছাঁটাই প্রস্তাব করেন। মঞ্জুরি দাবি বিলিয়ন পাউন্ড হলেও, বিরোধী দল সাধারণ প্রতীকী হিসেবে  ১০০ পাউন্ড কমানোর দাবি জানায়। 

চলতি অর্থবছরে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলো মঞ্জুরির অতিরিক্ত ব্যয় করে, তখনও বাংলাদেশে বিরোধী দল প্রতীকী হিসেবে প্রতিবাদে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব করে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে প্রতিবাদ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন। সরকারি নীতি সম্পর্কে আলোচনা করে তিনি এই প্রস্তাব করেন। 

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় খুন, ছিনতাই, ডাকাতি কমেছে। ধর্ষণের মামলা কিছুটা বেড়েছে। কারণ, মামলা দায়ের না করতে এখন আর চাপ ভয় নেই। 

মঞ্জুরি দাবির পক্ষ সমর্থন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনলে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিতে হবে এবং লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। প্রবাসীদের সেবা বন্ধ হয়ে যাবে এবং জাতিসংঘে চাঁদা দেওয়া সম্ভব হবে না। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা বৈঠকে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দাবির ওপর ২৬ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের মো. রায়হান সিরাজী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ বক্তব্য দেন।

জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিদেশে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে এ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা থাকা দরকার। এসময় তিনি বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য নিয়ে কথা বলেন। 

আরও পড়ুন

×