ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

যোগাযোগ

বিড়ম্বনাহীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

বিড়ম্বনাহীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
×

আবু নাছের টিপু

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৮

কয়েক বছর পর দেশে ফিরেছেন সাজ্জাদ সাহেব। পরিবার-পরিজন বাস করে চট্টগ্রাম। শেষবার যখন দেশে এসেছিলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল, তা এখনও তাকে পীড়া দেয়। তাই এবার আগেই সতর্ক। বড় ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তাওহিদ সাজ্জাদকে আগেই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট কেটে রাখতে বলেছিলেন; কিন্তু ছেলে তা করেননি। মনে শঙ্কা নিয়ে ছেলের গাড়িতেই চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। গাড়ি যতই এগিয়ে যায়, সাজ্জাদ সাহেব ততই বিস্মিত হন। এর আগে যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর সেতু পার হতে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছিল। কিন্তু এখন ভিন্ন দৃশ্যপট ও অভিজ্ঞতা। ছেলের ওপর যে রাগ ছিল তা কাটতে শুরু করে। সাজ্জাদ সাহেবের মনে পড়ে, বিদেশ যাওয়ার আগে ভিসার কাজে একবার ঢাকা এসেছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ভালোয় ভালোয় ঢাকায় আসেন; কিন্তু শনির আখড়ার পর গাড়ি আর এগোয় না। অথচ এখন দ্রুতই পেরিয়ে গেল যাত্রাবাড়ী। বিস্ময় তার চোখে-মুখে।
গাড়ি গিয়ে পৌঁছল মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায়। নেই সেই পুরোনো দৃশ্যপট। ডানপাশের ফাস্টট্র্যাক লেনে গাড়ি ঢুকল। টোল বুথের বাধাটি আপনাআপনি সরে গেল। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আদায় হলো টোল। ছেলের মোবাইলে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস এলো, তার অ্যাকাউন্ট থেকে টোলের সমপরিমাণ টাকা কর্তন করা হয়েছে। ছেলে বাবাকে এসএমএস দেখান। বাবার চোখে-মুখে বিস্ময়। এভাবেই বিদেশে টোল আদায় করা হয়। সাজ্জাদ সাহেব বুঝতে শুরু করলেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প। শঙ্কা নিয়ে শুরু করা ভ্রমণ ধীরে ধীরে আনন্দে রূপ নেয়। সাজ্জাদ সাহেব ঘড়ি দেখেন। মাত্র ৫০ মিনিটে পার হয়ে এলেন দাউদকান্দি সেতু, যা ছিল একসময় স্বপ্নের মতো। চার লেনের মহাসড়ক ধরে গাড়ি এগিয়ে চলে চট্টগ্রামের দিকে। এ মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে চার লেনে উন্নীত এ মহাসড়ক। তাঁর প্রশ্ন জাগে, চার লেন হওয়ার পরও কেন যানজট লেগেছিল? প্রকৌশলী ছেলে বাবাকে বুঝিয়ে দেন। এতদিন মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও মেঘনা আর গোমতী সেতু ছিল দুই লেনের। ফলে সেতুর প্রান্তে সৃষ্টি হতো যানজট। জট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বাড়ত যাত্রীদের। এ বাস্তবতায় সরকার তিনটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তিনটি সেতু নির্মাণ এবং পুরোনো তিনটি সংস্কারে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি দেশে এক অনন্য নজির। আট হাজার পাঁচশ' কোটি টাকার প্রকল্প থেকে সাশ্রয় হয়েছে এক হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন তিনটি সেতু নির্মাণকাজ এবং পুরোনো তিনটির সংস্কার কাজও সময়ের আগেই শেষ হয়েছে।
গাড়ি এগিয়ে চলে। প্রশস্ত সড়কের দু'পাশে বিস্তৃত সবুজ। সড়ক বিভাজকে লাগানো ফুলগাছে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। প্রস্টম্ফুটিত ফুল ভ্রমণ আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম আন্ডারপাস। সেনানিবাসের দু'পাশের বসতিকে যুক্ত করেছে পাতাল সংযোগ। পথিমধ্যে হাইওয়ে সংলগ্ন রেস্টুরেন্টে চা-বিরতি শেষে আবার চলতে শুরু করেন পিতা-পুত্র। ততক্ষণে সূর্য অস্তগামী। কুমিল্লার পদুয়ারবাজার আর ফতেপুর রেলওয়ে ওভারপাস পেরিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলে চট্টগ্রামের দিকে। আগে এ দুটি স্থানে ট্রেন আসা-যাওয়ার জন্য অনেক সময় বসে থাকতে হতো। এখন আর নেই সেই ঝক্কি। ফেনীর মহিপালে ছয় লেনের ফ্লাইওভারে জ্বলে উঠেছে উজ্জ্বল আলো। সন্তানের কাছে তখনও শুনতে থাকেন সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের কথা।
সাজ্জাদ সাহেবের গাড়ি সিটি গেট হয়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। ঘড়ি দেখে অবাক তিনি। মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানী শহর থেকে চট্টগ্রামে! নেই কোনো ভ্রমণক্লান্তি। এতদিন প্রবাসে দেশের কত নেতিবাচক গল্প শুনেছেন! এখন নিজ চোখে দেখে বিস্মিত। দেখেছেন অদম্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া এক নতুন বাংলাদেশ। অন্যান্য খাতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি মুগ্ধ।
সরকারি কর্মকর্তা

আরও পড়ুন

×