ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বস্তিবাসীর গৃহ বরাদ্দে একটি পরামর্শ

বস্তিবাসীর গৃহ বরাদ্দে একটি পরামর্শ
×

এম.এ. হাসেম

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৯

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেক গৃহহীনকে গৃহ বরাদ্দের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব গৃহহীন মানুষকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, মুজিববর্ষে দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে, এটা হতে পারে না। এই মুজিববর্ষেই বাংলার মাটিতে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। ৭ মার্চ শনিবার তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে দেশবাসীসহ আপামর জনগণ স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে গৃহহীনদের মাঝে একটি গৃহের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এক জরিপে প্রতীয়মান হয় যে, ঢাকা শহরে যতগুলো বস্তি রয়েছে তাতে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার অমানবিক জীবনযাপন করছে। প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো বস্তিতে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো। তাদের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হলে সারাজীবনের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে।
প্রত্যেক পরিবারকে ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট করে দিলে সর্বোচ্চ প্রতি ফ্ল্যাটে আট লাখ টাকা খরচ হবে। আমার পরামর্শ রইল, ঢাকার অদূরে ২৫ বিঘা জমির মধ্যে কয়েকটি ২৫ তলা ভবন করতে হবে, যাতে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়। প্রতি ফ্ল্যাট আট লাখ টাকা হিসাবে ১০ হাজার ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য ব্যয় ৮০০ কোটি টাকা। ঢাকা শহরে করাইল বস্তি, মিরপুর বস্তি, কমলাপুর বস্তিসহ আনাচেকানাচে ছোটখাটো সব বস্তির সবার একটি স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও হবে।
ঢাকা সিটিতে যে যানজট, মাদকসেবীসহ অসামাজিক কার্যকলাপ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ওইসব বস্তিবাসীর একটি প্রভাব রয়েছে। একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হলে যানজট, মাদকসেবীদের অবাধ চলাফেরা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হবে। এতে ঢাকা শহরের মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস ও চলাফেরা করতে পারবে এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে। মানবিক কারণে দেশ ও জাতির স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরও ঢাকা সিটির জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করবে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন এবং কিছু কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। এই গৃহহীনদের গৃহনির্মাণের প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে টাকার উৎস হিসেবে বিদেশি দাতা সংস্থাসহ দেশগুলোর অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। যেমন সৌদি আরব, জাপান, মালয়েশিয়া, কাতার, দুবাইসহ মুসলিম দেশগুলো। তাছাড়া মানবিক কারণে আরও অনেক দেশই সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রী বহুবারই বলেছেন, গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ করে দেবেন। তবে কিছু কিছু গৃহনির্মাণ করেছেন, যা বিচ্ছিন্নভাবে আছে। একটি সামাজিক ব্যবস্থা উন্নতির জন্য প্রকল্পটি একান্ত প্রয়োজন। বিদেশি বহু কোম্পানি আছে, যারা মানবতার খাতিরে সাহায্য হিসেবে আর্থিক অনুদান দেবে। তবে আমাদের পরিকল্পনার প্রতি সদিচ্ছা থাকতে হবে।
আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, ঢাকা শহরের বস্তির কারণে বহু ছেলেমেয়ে নষ্ট হচ্ছে এবং বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আপনি যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চান, তাহলে চায়নিজ ও জাপানিজরা এক বছরের মধ্যে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দিতে সক্ষম হবে। বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আপনার প্রতি অনুরোধ, মানবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ সদয় সিদ্ধান্ত এবং সম্মতি জ্ঞাপন করবেন।
  সাবেক সংসদ সদস্য

আরও পড়ুন

×