ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

করোনা সংকট

মানবতার জয় হোক

মানবতার জয় হোক
×

ড. আতিউর রহমান

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৩৫ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৫:০৮

দু'সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘরের বার হই না। শুধু আমি কেন, সারাবিশ্বই থমকে গেছে। জীবন ধারা পাল্টে গেছে। ঘর-বাড়ি মুছছি। দরজা-জানালার হাতল ডেটল দিয়ে পরিস্কার করছি। বই পড়ছি। মাঝে মধ্যে লিখছি। বিদেশে থাকা সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি। অনলাইনে প্রচুর পড়ার খোরাক পাচ্ছি। কয়েকটি 'হোয়াটস অ্যাপ' গ্রুপের সদস্য হওয়ার কারণে কত ধরনের তথ্যই না পাচ্ছি। এ গ্রুপগুলো খুবই দায়িত্বশীল। সর্বক্ষণ দেশের ও দশের মঙ্গল নিয়ে এসব গ্রুপের সদস্যরা ভাবছেন। দুঃসংবাদও শেয়ার করছেন। বিশেষ করে মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মন খুব খারাপ হয়ে যায়।

রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদও এমন একটি গ্রুপ তৈরি করেছে। আমি পরিষদের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই যুক্ত। তাই আমাকেও রেখেছেন তারা তাদের গ্রুপে। সপ্তাহ খানিক আগে এই গ্রুপ থেকে প্রস্তাব এলো, এমন দুর্দিনে আমরা কি অতিদরিদ্র এবং অভুক্ত মানুষের জন্য কিছু করতে পারি না? সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক সাড়া পড়তে শুরু করল। দ্রুতই দুই লাখ টাকার বেশি উঠে গেল। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাত্র এক টাকায় খাবার পরিবেশন করে দারুণ সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে। তাই সদস্যদের ইচ্ছে মতো তাদের এক লাখ টাকা দেওয়া হলো। বাদবাকি টাকা আঞ্চলিক শাখাগুলোর মাধ্যমে হঠাৎ দুর্বিপাকে পড়া শিল্পীদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই যেমন যারা ঢোল বাজায়। ভাবুন তো তারা এখন কীভাবে বেঁচে আছেন। যারা ছাত্রছাত্রীদের গান শিখিয়ে খানিকটা আয় করতেন তারা কী খাচ্ছেন? তাই তাদের জন্য সামান্য এই সহায়তার হাত বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন সদস্যরা। ছায়ানট নিজেও তার তহবিল থেকে এই ফাউন্ডেশন ও আরও একটি সংস্থার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা প্রদান করেছে।

সংস্কৃতিজনদের এমন করে এগিয়ে আসা দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি। খেয়াল করুন ১৯৭০ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ বাংলায় বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর শিল্পী ও সংস্কৃতিজনরা ওয়াহিদুল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম, ডাক্তার সারওয়ার আলী, হাসনাত ভাই এবং আরও অনেকের নেতৃত্বে যেভাবে দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তা ছিল সত্যি অভাবনীয়। দুর্যোগে, দুঃসময়ে সংস্কৃতিজনরা এভাবেই এগিয়ে আসার কথা। একাত্তরের অসহযোগের দিনগুলোতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তারা মানবতার জয়গান গেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের 'সভ্যতার সঙ্কট' প্রবন্ধ থেকে আমরা জেনেছি, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। সেই মানুষ আজ যখন অনাহারে, অর্ধাহারে কোনো মতে বেঁচে আছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোই যে সব সামর্থ্যবান মানুষের পবিত্র দায়িত্ব।

সারাদেশ থেকে প্রচুর টেলিফোন পাই। মানুষ ভালোবেসে নিরন্তর আমি কেমন আছি জানতে চান। তাদের মধ্যে অনেক কৃষকও আছেন। তাদের সঙ্গে আমার রয়েছে আত্মার বন্ধন। কালীগঞ্জের মর্জিনা, কুমিল্লার পাম মঞ্জুর, ঈশ্বরদীর কুল ময়েজ ও তার স্ত্রী বেলি বেগমের কথা ভুলি কীভাবে? তারা এ দেশের কৃষিকে আধুনিক করতে যে অবদান রেখে চলেছেন, তার স্বীকৃতি বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার দিয়েছে। ক'দিন আগে ময়েজ টেলিফোন করেছিলেন। বললাম কেমন আছেন? বললেন, ফসল যা ফলিয়েছিলাম তা আর বিক্রি করতে পারছি না। বললাম, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন। সবজিগুলো দিয়ে কয়েকশ' প্যাকেট করুন এবং যেসব পরিবার বিপাকে পড়েছে তাদের দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। দু'দিন পরেই ময়েজ ও বেলি বেগম জানালেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশের এসপি তাদের বানানো হাজার হাজার প্যাকেট সংগ্রহ করে দুস্থ মানুষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এ পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারকে সাত কেজি করে সবজি হিসেবে ১০ হাজারেরও বেশি প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। আমি খুবই খুশি হলাম শুনে। বললাম, আপনাদের নিজেদের কোনো সমস্যার কথা প্রশাসনকে বলেছেন? ময়েজের খোলামেলা উত্তর, 'আগে তো স্যার মানুষ বাঁচাই। পরে দেখা যাবে।'

আমি যারপরনাই গর্বিত এই কৃষকদের জন্য। তাদের দিকে নিশ্চয়ই সরকার তাকাবেন। গ্রামে এখন অনেক মুরগি ও গাভীর খামার এবং মৎস্য খামার গড়ে উঠেছে। এরাও ক্ষুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এসব উদ্যোক্তার জন্যই কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ২০ হাজার কোটি টাকার নয়া প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এদের হাতে কী করে এই অর্থ পৌঁছানো যায় সে উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকই নিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে এই উদ্যমী কৃষকদের সংকটকালে ঠিকই রক্ষা করতে পারেন। সরকারি প্রণোদনার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষকদের জন্য নয়া পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিও হাতে নিতে পারে। ব্যাংক রেট এক শতাংশ কমিয়ে চার শতাংশ হারে কৃষককে পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ করে দিতে পারলে ব্যাংকগুলোও এগিয়ে আসবে। তা না হলে তারল্যের অভাব আছে বলে এদেরকে হিসেবেই আনতে চাইবে না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত ব্যাংক এবং এসব কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে অভিনব অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের কর্মসূচি নিশ্চয়ই নিতে পারে। বর্গাচাষিদের জন্যও নয়া কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই ভূমি ও জলভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, কৃষিতে উৎপাদন বাড়লে এই দুর্যোগ মোকাবিলা অনেকটাই সহজ হবে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে তার এই নীতিনির্দেশনা ভালো করে অনুভব করার আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ অর্থ দিতে হবে। ব্যাংকের হাতে থাকা সরকারি বন্ডগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার মূল্যে কিনে তাদের হাতে অর্থ দিতে পারে। নিয়মিত রিফাইন্যান্স চালু রেখে তাদের অর্থ জোগান দিতে পারে। এসএমই খাতের অনেক রকম ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক 'ঋণ গ্যারান্টি' কর্মসূচি চালু করতে পারে। আর দু'তিন শতাংশের বাড়তি ভর্তুকিও দিতে পারে। যাই করুন, ক্ষুদে উদ্যোক্তা হিসেবে আধুনিক কৃষক ও খামারিদের কথা যেন ভুলে না যান। একই সঙ্গে ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে অনেক স্টার্টআপ এখন ঘরে আটকে থাকা নগরের মানুষকে চাল, ডাল, মসলা, সবজি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে। এরা এই দুঃসময়ে দারুণ কাজ করছে। এরাই আগামী দিনে মূলধারার উদ্যোক্তায় পরিণত হবে। তাই প্রণোদনা প্যাকেজের পূর্ণ সুযোগের তারাও ভাগীদার।

প্রধানমন্ত্রী দিনমজুর, ছোটখাটো দোকানদার, নিম্ন মধ্যবিত্তের তালিকা করতে বলেছেন। তালিকা করে তাদের কাছে খাবারের উপকরণ প্যাকেট পাঠাতে পারলে ভালো, তা না হলে নগদ সহায়তা দেওয়া যায়। তাদের প্রত্যেকেরই মোবাইল ব্যাংক হিসাব আছে। ওই হিসেবেই অর্থ পাঠানো সম্ভব। গার্মেন্ট কর্মী ও সামাজিক ভাতা গ্রহণকারীদের সরকার অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

আমাদের দিন আনে দিন খায় এমন মানুষ আছেন প্রায় এক কোটি। এ ছাড়া আরও এক কোটি আছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত, যেমন- ছোট দোকানদার, নাপিত, ফেরিওয়ালা, চা বিক্রেতা ইত্যাদি। আরও আছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম, চর ও হাওরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অসংখ্য অসহায় মানুষ। এরা এখন অভুক্ত। এদের কাছে কমিউনিটির মাধ্যমে (যেমন হেডম্যান) দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব। নগরের বস্তি এলাকার সবাইকে ত্রাণের আওতায় আনতে হবে। আংশিক কভারেজ দিলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এখানে সমন্বয় খুবই জরুরি। সরকার, স্থানীয় সরকার এবং এনজিও মিলে পুরো নগর দারিদ্র্যের ডিজিটাল ম্যাপিং ও হাঙ্গার হেল্পলাইন (বর্তমানে চালু সাধারণ হটলাইন ৩৩৩ ছাড়াও) চালু করে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের নগদ সহায়তাও দেওয়া যায়। সে জন্য দরকার ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের মানুষ বাঁচানোর এই অভিযানে দ্রুত সংযুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তি খাতের বড় বড় আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সিএসআর সহায়তা নিয়ে এসব উদ্যোগকে সমর্থন করা উচিত। কারণ মানুষ বাঁচলেই অর্থনীতিও বাঁচবে।

ফিরে আসি মানবিকতার বিস্টেম্ফারণের কথায়। আরেকটি 'হোয়াটস অ্যাপ' গ্রুপ পরিচালনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার সহকর্মী হিসাববিজ্ঞানের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। ওই গ্রুপের একজন লিখেছেন, মৌলভীবাজারের এক প্রবাসী উদ্যোক্তার কথা। সম্ভবত আবদুস ছাত্তার তার নাম। তিনি নিজেও প্রবাসে লকডাউন অবস্থায় আছেন। তবু তার মৌলভীবাজারের বিপণিবিতানের দোকানগুলোর মালিকদের ভাড়া কিছুদিনের জন্য মাফ করে দিয়েছেন। কেনাবেচা বন্ধ থাকায় ছোটখাটো অনেক দোকানদারই বিপদে পড়েছেন। এদেরও ক্ষুদে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রণোদনা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করুন। চলতি পুঁজি ভেঙে এরা বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। দুর্যোগের পর ফের ব্যবসা শুরু করবেন কী করে?

ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাঁচানোর সংগ্রামে লিপ্ত। তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই ভালো কাজ করেছেন। আরও ভালো হয় যদি কোনো রকম দোষারোপ না করে তাদের মানবসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো যায়। তাদের নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। আমার জানা মতে, ডাক্তাররা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। এ খাতে নীতি সমন্বয়ের অভাব যে ছিল তা আর বলে লাভ নেই। বরং কী করে দ্রুত এ সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে ওঠা যায় সেদিকেই নজর দিতে হবে। এই রোগের পরীক্ষা যে যথেষ্ট হয়নি, তা অস্বীকার করে লাভ নেই। বরং ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আগে পরীক্ষার আওতায় আনা হোক। তাদের মাঝে এই ভাইরাস ঢুকে থাকলে এর প্রসার দ্রুত হবেই। তাই দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। হাসপাতালগুলো আরও দ্রুত করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করার যথেষ্ট সময় কিন্তু আমরা পেয়েছিলাম। তবু স্বাস্থ্যসেবীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ রেডি রাখার মতো কাজগুলোতে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ও শিথিলতা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই।

বিচক্ষণ মানুষ ও উদ্যোক্তারা কিন্তু ঠিকই এগিয়ে এসেছেন স্বাস্থ্য খাতের এই অসম্পূর্ণতা পূরণের জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন তার ছাত্র ও সহকর্মীদের নিয়ে এসব সরঞ্জাম বানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। তার বন্ধু উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সাহায্য ও সহকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ফেইস শিল্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরির ব্যবস্থা করেছেন। বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসক ও ছাত্ররাও তার কাজে অংশীদার হচ্ছেন। প্রাণ-আরএফএল করোনা আক্রান্ত আইসিইউ রোগীদের পরীক্ষার জন্য নিরাপদ বাপ তৈরি করে দিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক উদ্যোগ নিয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এক কোটি মূল্যেরও বেশি পিপিই আমদানির।

অন্যান্য ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছেন। ওয়ালটন গ্রুপ অনেক আগেই তার কর্মীদের ৬৭ কোটি টাকার বোনাস দিয়ে দিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিদিন কয়েক হাজার অভুক্ত মানুষের খাবারের জোগান দিচ্ছে। আইডিএলসি ৩০ হাজার মানুষের জন্য খাবারের উপকরণের ব্যাগ সরবরাহ করেছে পাঁচটি এনজিওর মাধ্যমে। তাদের মধ্যে সাজিদা ফাউন্ডেশনও আছে। খবর পেলাম কমলাপুর স্টেশনের পাশেই কয়েকশ পথশিশু না খেয়ে আছে। ট্রেন চলে না। তাই তাদের কাজ নেই। সাজিদা ফাউন্ডেশনের ফিজা কবিরকে বলার সঙ্গে সঙ্গে এদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। আশা, ব্র্যাকসহ অসংখ্য ছোট-বড় এনজিও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা ও অন্যান্য শহরের মেয়র, চট্টগ্রামের পুলিশ কর্তৃপক্ষসহ অসংখ্য সামাজিক গোষ্ঠী নেমে পড়েছে মানবিকতার সংগ্রামে। আমার ছাত্রছাত্রীরাও মাঠে কাজ করছে। সংকট যত তীব্রই হোক আমাদের সাহসী মানুষরা যদি এভাবে জেগে ওঠেন এবং সরকার যদি তাদের কাজের সুযোগ করে দেয় তাহলে নিশ্চয়ই মানবতার জয় হবেই। আমাদের মাঠ প্রশাসনও দারুণ কাজ করছে। শত্রু (করোনা) ভয়ংকর। তাই আসুন সবাই মিলে আগে মানুষ বাঁচাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

[email protected]

আরও পড়ুন

×