ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চাকসুর অবস্থানে শাটল সংস্কারে ১১ দফা দাবি

চাকসুর অবস্থানে শাটল সংস্কারে ১১ দফা দাবি
×

শাটল সংস্কারে ১১ দফা দাবিতে চাকসুর অবস্থান। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১৪

শাটল ট্রেনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতিবাদে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে এই দাবি তোলেন নেতারা। এতে অতিরিক্ত ভিড় আর নিরাপত্তাহীনতার সুরাহা চেয়েছেন তারা। 

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘এই মুহূর্তে দরকার, শাটলে সংস্কার’; ‘ছাত্র মরে গরমে, ভিসি থাকে আরামে’, ‘ফ্যান ঘুরে না-লাইট নাই, প্রশাসনের খবর নাই’, ‘শাটলে পাথর পড়ে, প্রশাসন কী করে’, ‘গরমে গরমে জীবন শেষ, ভিসি আছে এসিতে বেশ’, ‘আর কতকাল ভাঙা ট্রেন, যুক্ত করো নতুন ট্রেন’, ‘বগি বৃদ্ধি করতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে’, ‘শাটলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করো করতেই হবে’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে প্রশাসনিক ভবন এলাকা।

সেখানে আলাওল হলের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শাটলে পর্যাপ্ত বগি না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অতীতে একাধিকবার শাটল সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতায় সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এখন চাকসু গঠিত হওয়ায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে এই দাবিগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি শাটল ব্যবস্থার যৌক্তিক ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য মাত্র দুটি শাটল ট্রেন রয়েছে, যার প্রতিটিতে মাত্র ৮-৯টি বগি সংযুক্ত। এই সীমিত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভিড় ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, চাকসু গঠনের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার নতুন ট্রেন সংযোজন, ডাবল লাইন চালু এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

দাবি বাস্তবায়নে আগামী রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ইসহাক ভূঁঞা। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

কর্মসূচি শেষে চাকসু নেতারা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চাপ বিবেচনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেমো ট্রেনের পরিবর্তে দ্রুত অন্তত আরও একটি নতুন ট্রেন চালু করা; শাটল ট্রেনের বিকল্প রুট তৈরি এবং অপারেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন; কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া প্রতিটি বগিতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ইলেকট্রনিক সুবিধা চালু; শাটল ট্রেনের গতি বৃদ্ধি; বগিগুলোর সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ; স্টেশন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শাটল স্টেশন ও ট্রেনে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু, ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় নিয়মিত টহল এবং রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবিও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বুধবার পলিটেকনিক এলাকায় শাটল ট্রেন থামার পর কয়েকজন বহিরাগত ট্রেনে উঠে পড়েন। তারা এক শিক্ষার্থীর পাশের খালি আসনে বসতে চান। এ সময় শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হওয়ায় তাদের প্রতি আপত্তি জানালে তারা উচ্চস্বরে কথা বলা শুরু করেন ও হাসাহাসি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে তারা মোবাইল ফোন টানাটানি করে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও তারা রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দিতে দেওয়ানহাট পর্যন্ত যায়।

আরও পড়ুন

×