ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

'যাঁরা নকলের অভিযোগ করছেন, তাঁরা দুটি ছবির একটিও দেখেননি'

'যাঁরা নকলের অভিযোগ করছেন, তাঁরা দুটি ছবির একটিও দেখেননি'
×

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২২ | ০০:৫২ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২২ | ০৪:১৮

মেজবাউর রহমান সুমন।  'তারপরে ও আঙ্গুরলতা নন্দকে ভালোবাসে', 'তারপর পারুলের দিন', 'ফেরার পথ নেই দক্ষিণের জানালাটা খোলা' নাটকের মতো জনপ্রিয় সব নাটকের নির্মাতা তিনি। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় বিজ্ঞাপন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নির্মিত প্রথম ছবি 'হাওয়া'। ছবিটি দর্শকদের কাছে তুমুল প্রশংসা পাচ্ছে। হলে  হলে টিকেট সঙ্কট পড়েছে। পাশাপাশি ছবিটি নকলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়গুলো নিয়েই বিস্তারিত কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে-

'হাওয়া' ছবির 'সাদা সাদা কালা কালা' গানটি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। গানের মতো ছবিও দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলবে ভেবেছিলেন কি?

গান হিট হলে সিনেমাও হিট হবে- এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। 'সাদা সাদা কালা কালা' গান দর্শক-শ্রোতা পছন্দ করেছেন- এটা ভালো লাগার। এ গান যখন আমরা তৈরি করি, তখন সেখানে শিকড়ের স্পর্শ রাখতে চেয়েছি, যাতে সেটা অনেকের ভালো লাগে। কিন্তু গানটা এত আলোড়ন তুলবে, সেটা বুঝিনি। একইভাবে আমরা সিনেমায় যে গল্প রেখেছি, তা দর্শক দেখুক, ভালো লাগা-মন্দ লাগার বিষয়টি শেয়ার করুক- এটুকুই ছিল চাওয়া। এখন সিনেমা হলে গিয়ে যে দৃশ্য চোখে পড়ছে, তা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

'হাওয়া' ছবিতে যে গল্প তুলে ধরেছেন, তা দর্শকের ভালো লাগবে কিনা, তা নিয়ে ভেবেছিলেন?

কোনো শ্রেণি বা কাউকে ভেবে শিল্পকর্ম হয় না। তাই ছবির গল্প নির্বাচনেও নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির দর্শকের কথা ভাবনায় ছিল না। নিজের খেয়ালেই এই ছবির গল্প বেছে নেওয়া। কারণ, অনেক দিন ধরে এই গল্প নিয়ে কাজ করছিলাম। শুরুতে গল্পের কেন্দ্র ছিল শহর; কিন্তু ভালো না লাগায় তা সমুদ্র টেনে এনেছি।

'হাওয়া' নিয়ে দর্শকের যে প্রতিক্রিয়া, তা থেকে কি মনে হয় আমাদের সিনেমার বাঁকবদল হচ্ছে?

'হাওয়া'র দর্শকের প্রতিক্রিয়া থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, তাঁরা সব ধরনের সিনেমা দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তরুণ নির্মাতারা সাহসী হতে পারেন নিজেদের মতো করে নানা ধরনের গল্প পর্দায় তুলে ধরার। 'হাওয়া' তাঁদের কাছে একটা উদাহরণ হতে পারে।

অনেকের অভিযোগ, 'হাওয়া'র সঙ্গে কোরিয়ান সিনেমা 'সি ফগ'-এর গল্পের মিল আছে...

মিলের জায়গা হলো সমুদ্র। 'হাওয়া' ও 'সি ফগ' দুটি সিনেমার দৃশ্যধারণ সমুদ্রে করা হয়েছে। কিন্তু কথা হলো, সমুদ্রে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে বলে তো একই রকম গল্পের ছবি হয়ে যায়নি। এটা আমাদের অঞ্চলের গল্প, এটা আমাদের সিনেমা। দুটি সিনেমা দেখার পরই দর্শকের কাছে গল্পের মিল-অমিলের বিষয়টা স্পষ্ট হবে। 'সি ফগ'-এর সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে মানব পাচারের গল্প। কিন্তু 'হাওয়া'র গল্পের বিষয়টি তো মানব পাচার নয়। আমার ধারণা, যাঁরা অভিযোগের তীর ছুড়ছেন, তাঁরা দুটির একটিও দেখেননি। তাই আমার অনুরোধ, দুটি সিনেমা দেখার পরই যে যা বলতে চান, তা বলুন।

আপনার ব্যান্ড মেঘদল অনেক দিন পর আলোচনায় এলো 'হাওয়া'র গান করার সুবাদে। এখন কি ব্যান্ডের নিয়মিত আয়োজন চোখে পড়বে?

'হাওয়া' ছবির জন্য মেঘদল যে গানটি তৈরি করেছে, তা এই ব্যান্ডকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কিন্তু সত্যি এটিই যে, মেঘদল নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছে। এটি সত্যি যে, মাঝেমধ্যে আমাদের আয়োজন একটু ধীর হয়ে যায়। যে জন্য মনে হয়, আমরা নতুন কিছু করছি না। মেঘদল এর মধ্যে বেশকিছু গানের কাজ শুরু করেছে- যেগুলো একে একে প্রকাশ পাবে।

শুনলাম, এরই মধ্যে নতুন একটি ছবির কাজ শুরু করে দিয়েছেন?

কাজ শুরু করিনি, তবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন স্ট্ক্রিপ্টের কাটাছেঁড়া চলছে। স্ট্ক্রিপ্ট চূড়ান্ত হলে তার পর শুটিং নিয়ে ভাবব।

আরও পড়ুন

×