ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মঞ্চে যখন দর্শকের উচ্ছ্বাস দেখি তখন মনে হয় আমি সফল: মিলা

মঞ্চে যখন দর্শকের উচ্ছ্বাস দেখি তখন মনে হয় আমি সফল: মিলা
×

মিলা ইসলাম

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:৪৯ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৫ | ২০:১৭

‘আমার কাছে সফলতা মানে শ্রোতার ভালোবাসা। জনপ্রিয়তা আসা-যাওয়ার বিষয়, কিন্তু মানুষ যদি আমার গান শুনে হাসে, নাচে বা কাঁদে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমার জন্য। আমি প্রতিটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন দর্শকের উচ্ছ্বাস দেখি, তখনই মনে হয় আমি সফল।’ সম্প্রতি সমকালের সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলছিলেন সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম।

সংগীতজীবনে প্রায় দুই দশকে পৌছেছেন মিলা। পথচলা তবুও পথটা দীর্ঘ বলেন মনে করেন না তিনি। কারণ আরও অনেক সময় গানের মধ্যদিয়ে যেতে চান এই সংগীতশিল্পী। 

তার কথায়, “আমার কাছে দুই দশক কোনো দীর্ঘ সময় মনে হয় না। আমি এখনও মনে করি শুরুতেই আছি। অনেকেই বলে, ‘দীর্ঘ সফর’, কিন্তু আমি সেটাকে দীর্ঘ ভাবতে চাই না। কারণ আমি এখনও অনেক কিছু দিতে চাই। অনেক মঞ্চ, অনেক গান, অনেক শ্রোতা আমার অপেক্ষায়। শ্রোতাদের হাসিমুখ, তাদের উচ্ছ্বাস, আর মঞ্চে আমার নাম ধরে ডাক, এগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে বাঁচায়, নতুন করে গান গাইতে অনুপ্রাণিত করে। আমি পরের ২০ বছর নিয়েই ভাবতে চাই, কীভাবে নতুন প্রজন্মের হৃদয়েও ছাপ রাখতে পারি। শ্রোতাদের ভালোবাসা আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর সেই ভালোবাসাই আমাকে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে দেয়নি; বরং নতুন শক্তি দিয়েছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।”

কিছু সময় পর ফের গানের ভুবনে ফিরেছেন মিলা। ফিরেই সিনেমার গান করেছেন। সেই গান জনপ্রিয়তাও পেয়েছে অধিক। তবে সিনেমার গানে সিন্ডিকেটের প্রশ্ন  উঠতেই মিলা বললেন, ‘প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতেই কিছু বাস্তবতা থাকে, আমাদের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করি, দিন শেষে শ্রোতাই আসল বিচারক। শ্রোতা যদি কোনো গান গ্রহণ না করে, তবে কোনো সিন্ডিকেটই সেই গানকে বাঁচাতে পারবে না। যদি অনেকের কথা মেনে নেই যে সিন্ডিকেট আছে, তখন এটাও মনে রাখা উচিত, কয়েকজন শিল্পী বা সংগীত পরিচালকের নাম ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বাজারে আনা যায়, কিন্তু শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায় না, যদি গান ভালো না হয়।’

অডিও অঙ্গনে এক সময় যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের নিজের ক্যারিয়ারের বড় অংশ মনে করেন মিলা। নতুনভাবে তাদের সঙ্গে কাজও করতে চান তিনি।

মিলার ভাষ্য, ‘অতীতে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা আমার ক্যারিয়ারের বড় অংশ। ভবিষ্যতে যদি সুযোগ হয়, আমি অবশ্যই চাই আবারও একসঙ্গে কাজ করতে। তবে আমি এক্সপেরিমেন্ট ভালোবাসি, তাই নতুন জেনারেশন, নতুন প্রযোজক বা মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহী।

গুঞ্জন বা বানোয়াট মিথ্যা শুরুর দিকে কষ্ঠ দিলেন এখন সেগুলো নিয়ে আর ভাবেন না মিলা। নেতিবাচক কিছু দেখলেই যেগুলো কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। কারণ, সেগুলো বাদ দিয়ে কাজের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান।

এই রক তারকা বলেন, ‘প্রথম দিকে গসিপ আমাকে কষ্ট দিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিখেছি, এগুলোকে গুরুত্ব দিলে নিজের মনোবল নষ্ট হয়। এখন আমি নেতিবাচক কথাকে এড়িয়ে যাই, কারণ আমি জানি আমার কাজই আমার পরিচয়। আমার সম্পর্কে কোনটা গসিপ, গুঞ্জন, বানোয়াট মিথ্যা বা সত্য সেটা আমি ভালো করেই জানি।’

আরও পড়ুন

×