খুলনা চেম্বার অব কমার্সের তপশিলের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, ঝুলে গেল নির্বাচন
ছবি-সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩৩
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে চেম্বারের প্রশাসক ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচনী তপশিলের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসান এই আদেশ দেন। সোমবার সেই চিঠি নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছেছে।
এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া ঝুলে গেল। আজ বৈধ প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে না।
এদিকে নির্বাচনে আপিল বোর্ডে বাতিল হওয়া ৬৯৭ জন নতুন সদস্যকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, ৬ জুলাই দেওয়া আপিল বোর্ডের আদেশ বাতিল এবং আগামী ২২ আগস্টের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এফবিসিসিআইয়ের সালিশি ট্রাইব্যুনালে করা মামলার শুনানি আজ ২১ জুলাই। বিকেল ৪টায় রাজধানীর এফবিসিআই ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশংকা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় শেষ পর্যন্ত শুনানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আদালত ও নির্বাচন বোর্ড থেকে জানা যায়, চেম্বার অব কমার্স আইন লঙ্ঘন করে ৮৯৮ জনকে নতুন সদস্য করা হয়েছে, এমন দাবি করে গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন সদস্য এম. বদরুল আনাম খান। পিটিশনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসক বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৮ ধারা এবং সংগঠনের সংঘবিধির ৫নং নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি গত ২২ জুন বাণিজ্য সংগঠনসমূহের মহাপরিচালককে জানানোর পরও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য সংগঠনসমূহের (ডিটিও) মহাপরিচালক, চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বাণিজ্য সংগঠন) এবং নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের ওপর রুল জারি করেন। একই সঙ্গে তপশিল এক মাসের জন্য স্থগিত করে ৪ আগস্টের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এই মামলার আবেদনকারী বদরুল আলম খান চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালকদের নেতৃত্বে গঠিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী।
এছাড়া গত ৯ জুলাই এফবিসিসিআইয়ের আর্বিটেশন ট্রাইব্যুনালে অরেকটি মামলা করা হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া খন্দকার ইকবাল কবিরসহ ৫১ জন মামলাটি দায়ের করেন। সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের অনুসারীরা মামলাটি দায়ের করেন। তাদের দাবি ছিল, ৬৯৭ জন নতুন সদস্যকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, ৬ জুলাই দেওয়া আপিল বোর্ডের আদেশ বাতিল এবং আগামী ২২ আগস্টের নির্বাচন স্থগিত করা।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১০ বছর পরে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। ইতোমধ্যে ২৫টি পদে ৬২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে আজ প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা এবং আগামী ২২ আগস্ট ভোট গ্রহণের কথা ছিল। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সবকিছুই ঝুলে গেল। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হতাশ।
জানতে চাইলে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড খুলনার পরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে তপশিলের কার্যক্রম স্থগিতাদেশ রাখা হয়েছে। এজন্য আজ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে না। আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে আমরা উপস্থিত হবো। প্রয়োজনীয় কাজও এগিয়ে রাখবো। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খুলনা