ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি’ বলার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি’ বলার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
×

আবুল খায়ের পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৩

সাভারে অটোরিকশা চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ঘটনার পর অটোরিকশাচালক ও একটি গ্যারেজের মালিককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভ এবং গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার আগে অটোরিকশাচালক সবুজ তার ছোট ছেলেকে রিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খাবার খেতে যান। এ সময় আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো।’ শিশুটি বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি এসে আবুল খায়েরকে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখেন। এরপর তাকে অটোরিকশা চোর বলে সন্দেহ করা হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে।

স্থানীয়দের দাবি, পরে আবুল খায়েরকে একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে মরদেহ রেখে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা চলে যান।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার বলেন, সোমবার দুপুরে দুই ব্যক্তি অটোরিকশায় করে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সাভার থানা থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

আটক গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান বলেন, তার গ্যারেজে আনার আগে স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে মারধর করেছিলেন। পরে গ্যারেজেও কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাকে মারধর করেন। তিনি নিজে মারধর করেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পরে আরেকজনের সহায়তায় তিনি ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মৃত ঘোষণা করার পর ভয় পেয়ে চলে আসেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গণপিটুনির ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×