পুষ্টিহীনতার কারণে খর্বতায় ভুগছে প্রতি ৪ শিশুর ১ জন
কর্মশালা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৪ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৬
বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশই খর্বতায় আক্রান্ত। একই বয়সী প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু ক্ষীণতায় ভুগছে। পুষ্টিহীনতা শিশুদের এ অবস্থার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজারের পিটস্টপে আয়োজিত ‘এসআরএইচআর এবং পুষ্টির জন্য নীতিগত সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মিডিয়া সেনসিটাইজেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর অপুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও জীবনযাত্রার প্রভাব রয়েছে। এ ছাড়া যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘ঋতুস্রাব নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় এনজিওগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহপাঠী প্রশিক্ষক তৈরির সাফল্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাধা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য সংকট ও পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. কামরুল আজাদ। তিনি মা, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এসআরএইচআর প্রকল্পের টিম লিডার শামিমা চৌধুরী তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও করণীয় তুলে ধরেন। বক্তব্য দেন বাপসার নির্বাহী পরিচালক ড. আলতাফ হোসেন, ইপসার পরিচালক নাসিম বানুসহ অন্যরা।
মুক্ত আলোচনা পর্বে সাংবাদিকরা সরকারি অফিসে তথ্য পেতে হয়রানির অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পেতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। কোনো কোনো কর্মকর্তা তথ্য না দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনেরও সুযোগ নেন। এতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য সহজলভ্য করা, দুর্যোগের সময়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত কাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য রোধে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
আয়োজকরা জানান, টেকসই ও সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারের সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক তুলে ধরা এবং স্বাস্থ্য খাতে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করাই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
‘হেলথ সিস্টেম রেজিলিয়েন্স ফর ইমপ্রুভড এসআরএইচআর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) কর্মশালাটির আয়োজন করে। বাপসা ও মমতার সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটিতে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে কানাডার হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।