ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছবির হাটের হাশিম মাহমুদের ‘বাজি’ দিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা

ছবির হাটের হাশিম মাহমুদের ‘বাজি’ দিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা
×

ইমন চৌধুরী ও হাশেম আলী। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:২৯

টানা দুই মৌসুমে ব্যাপক সাফল্যের পর গত বছরে যাত্রা শুরু করেছিল বহুল আলোচিত ও সমাদৃত সংগীতধারা কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় সিজন। বরাবরের মতো গত বছরের পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল সিজনের প্রথম গান হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘তাঁতি’। সে সময় জানানো হয়েছিল, তৃতীয় মৌসুমে থাকছে মোট ১১টি নতুন গান। এরপর ৩ মে আসে দ্বিতীয় গান ‘মা লো মা’। আর ২৫ মে প্রকাশিত হয় তৃতীয় গান, ওয়ারফেজ ব্যান্ডের জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘অবাক ভালোবাসা’র নতুন সংস্করণ। ব্যান্ডটির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গানটি বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে আর কোনো নতুন গান প্রকাশিত হয়নি। মাত্র তিনটি গান প্রকাশের পরই কার্যক্রম দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় স্থবির হয়ে যায়।

কেন থেমে গেল কোক স্টুডিও বাংলার যাত্রা? এ নিয়ে শ্রোতাদের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। কোক স্টুডিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

সম্প্রতি আবার নিয়মিত পোস্ট আসতে শুরু করেছে কোক স্টুডিও বাংলার ফেসবুক পোস্ট থেকে। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের জানানো হচ্ছে প্রকাশিত তিনটি গানের হালনাগাদ তথ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘কথা কইয়ো না’। ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে আলেয়া বেগম ও এরফান মৃধা শিবলুর কণ্ঠে গাওয়া এই গান ইতোমধ্যে ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৯৩ মিলিয়নের বেশি বার। তাতেই বোঝা যায়, প্রিয় এই আয়োজনের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। 

গুঞ্জন নয়, সত্যিই ফিরে এলো কোক স্টুডিও বাংলা। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে গতকাল রাত ৮টা ১৫ মিনিটে মুক্তি পেল চতুর্থ গান ‘বাজি’। এটি শুধু একটি গান নয়, যেন এক সুরেলা ভ্রমণ, যেখানে মিশেছে পাহাড়-সমতল-নগর জীবনের নানা ছন্দ, প্রেম ও মানবতার গল্প। ‘বাজি’তে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রতিভাবান শিল্পী ইমন চৌধুরী ও শহুরে কবি-গায়ক হাশিম মাহমুদ। গানটির কথা লিখেছেন হাশিম মাহমুদ নিজেই।  তাঁর শব্দে উঠে এসেছে এক সাধারণ নারীর নিষ্পাপ ও অপার্থিব প্রেম, যা সবার হৃদয়ে ছুঁয়ে যায় চিরন্তন অনুভূতির মতো। সুরকার ইমন চৌধুরী বরাবরের মতো এবারও নিজস্ব জাদু ছড়িয়েছেন। তাঁর সরোদের স্পর্শে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র আর আধুনিক সুরের মিশ্রণে জন্ম নিয়েছে এক সিনেম্যাটিক আবহ, যেখানে লোকস্মৃতির গন্ধ মিশে গেছে শহুরে জীবনের ভঙ্গুর অথচ প্রাণবন্ত ছন্দে। গানটির ভিজ্যুয়ালে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন একে দিয়েছে নতুন মাত্রা। টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ধুয়া গানের দল তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে ঘুরে ঘুরে যেন প্রেমের বৃত্ত অঙ্কন করেছে। বান্দরবানের ম্রাকোইচিং মারমা গেয়েছেন নিজের মাতৃভাষায়, সঙ্গে ছিলেন তাঁর নাতি কিয়ো উ প্রু মারমা বাঁশির সুরে। বিলুপ্তির পথে যাওয়া প্রাচীন সুরগুলো আবারও যেন ফিরে এসেছে জীবন্ত রূপে। 

এতেই থেমে থাকেনি আয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাওম নৃত্যশিল্পীরা বাঁশের লাঠির ছন্দে তৈরি করেছেন নৃত্যের অনন্য দৃশ্য। মণিপুরি সম্প্রদায়ের ‘পুং চোলম’ নৃত্য পরিবেশনা গানে এনেছে এক ধ্বনিময় উল্লাস। যেন আকাশে-বাতাসে প্রেমের আতশবাজি। গানটি নিয়ে শিল্পীরা প্রকাশ করেছেন গভীর উচ্ছ্বাস। ইমন চৌধুরী বলেন, “কোক স্টুডিও বাংলার প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য উৎসবের মতো। ‘বাজি’ আমাদের কাছে শুধু একটি গান নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রেম, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য মিলেমিশে একাকার।”

কোক স্টুডিও বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই এ সিজনের আরও ছয়টি গান প্রকাশিত হবে। এসব গানে তারকাখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি থাকবেন নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পীরাও। 

কোক স্টুডিও বাংলার মিউজিক কিউরেটর শায়ান চৌধুরী অর্ণব বলেন, ‘এ সিজনে আমরা বিভিন্ন ঘরানার প্রতিভাবান শিল্পীদের একত্র করেছি। তারা দারুণ কিছু তৈরি করেছেন। প্রতিটি গান তৈরির সময় আমরা যে আবেগ ও আনন্দ অনুভব করেছি, আমাদের শ্রোতারাও সেই অনুভূতি পাবেন বলে আমি আশাবাদী।’
 

আরও পড়ুন

×