ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন এখনকার প্লেব্যাক শিল্পীরা: কোনাল

অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন এখনকার প্লেব্যাক শিল্পীরা: কোনাল
×

সোমনূর মনির কোনাল। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪৪ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:৫৪

সোমনূর মনির কোনাল। তারকা কণ্ঠশিল্পী। প্লেব্যাকের পাশাপাশি একক ও দ্বৈত গানের আয়োজন নিয়ে কাটছে তাঁর ব্যস্ত সময়। সম্প্রতি সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন সিজেএফবি পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড। এই অর্জন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

‘রাজকুমার’ সিনেমার গানের জন্য সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পুরস্কার পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। এবার বলুন, এই সিনেমার ‘হবো রাজকুমার’ গানের জন্য স্বীকৃতি পেতে পারেন, এ কথা কি এবারও মনে হয়েছিল?
‘হবো রাজকুমার’ গানের জন্য পুরস্কার পাব–এটি সত্যি ভাবিনি। তবে এই গান যে অনেকের হৃদয় স্পর্শ করবে, তা নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। অবশ্য ‘হবো রাজকুমার’ কোনো ভাবেই ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। অথচ এই গান নিয়ে শ্রোতার প্রত্যাশা একটু বেশি ছিল। কারণ ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার পাশাপাশি এর গানগুলো দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। এ কারণে শাকিব খানের ‘রাজকুমার’ নিয়ে সিনেমাপ্রেমীর আগ্রহের কমতি ছিল না। সিনেমার গান নিয়েও প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। সব আয়োজন যে একই রকম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে, তা তো নয়। তাই ‘রাজকুমার’ সিনেমা জনপ্রিয়তা পেলেও ‘প্রিয়তমা’র মতো আলোড়ন তোলেনি। গানের বেলায়ও একই ফলাফল। অবাক করা বিষয় হলো–দুটি গানেরই গীতিকার, সুরকার, সংগীতায়োজক এক। গানের দৃশ্যে অভিনয়ও করেছেন একই অভিনেতা–শাকিব খান। কিন্তু ‘হবো রাজকুমার’ শ্রোতার মাঝে সাড়া ফেললেও ‘ও প্রিয়তমা’র রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। তারপরও এই ‘হবো রাজকুমার’ গানটি ‘ও প্রিয়তমা’র চেয়ে বেশি প্রিয়। 

এর মধ্যে নতুন কী কাজ করলেন? 
ইমন সাহার সংগীত পরিচালনায় ‘সাইলেন্স’ নামের একটি সিনেমায় প্লেব্যাক করলাম। পাশাপাশি রনির সুরে কিশোর দাসের সঙ্গে একটি গানে দ্বৈত গাইলাম। এ গানটি যে সিনেমায় রাখা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর পাশাপাশি সজীব দাসের সুরে একটি নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছি। প্লেব্যাক ছাড়াও কিছু একক ও দ্বৈত গানের কাজ চলছে। 


সোমনূর মনির কোনাল। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

নাটক ও সিনেমায় এক নাগারে প্লেব্যাক করে যাচ্ছেন। এই দুই মাধ্যমে কাজের পার্থক্য কী?
পারিশ্রমিক ছাড়া নাটক, সিনেমার প্লেব্যাকে আর কোনো পার্থক্য নেই, হা-হা-হা [হাসি]। আসলে দুই মাধ্যমেই গান তৈরি করা গল্প, চরিত্রের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অডিও গানের যেমন ইচ্ছামাফিক নিরীক্ষা চালাতে পারেন, গায়কীতে থাকে পূর্ণ স্বাধীনতা। প্লেব্যাকেও স্বাধীনতা থাকে, নিরীক্ষাধর্মী কাজ তুলে ধরা যায়, কিন্তু কোনো ভাবেই সিনেমার কাহিনি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যায় না। এটিই হলো প্লেব্যাক ও নাটক, সিনেমার গান তৈরির চ্যালেঞ্জ।

অডিও-ভিডিও আকারে প্রকাশিত আপনার অসংখ্য গান শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছে। প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আপনার পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও অর্জনের পাল্লাটা ভারী হয়ে উঠেছে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
এর উত্তর সংগীতবোদ্ধা আর শ্রোতা ভালো বলতে পারেন। আমি তো সব ধরনের গানেই নিজের শতভাগ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। তারপরও প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আমাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেটির পেছনে একটি কারণ থাকতে পারে এই যে, প্রতিটি গান ফিল্মি এক্সপ্রেশন দিয়ে গাওয়ার চেষ্টা। সবশেষে ‘ময়না’ গানটিও আমি ফিল্মি এক্সপ্রেশনে গেয়েছি এবং তা অনেকে পছন্দ করেছেন। এর বাইরে আর কোনো কারণ খুঁজতে গেলে হয়তো কাছাকাছি সময়ে একাধিক সিনেমার গান জনপ্রিয়তা পাওয়ার বিষয়টি আসতে পারে। 

সিনেমার সংখ্যা যে হারে কমে যাচ্ছে, তা প্লেব্যাক শিল্পীদের জন্য কি অশনিসংকেত বলে মনে হচ্ছে না?
শুধু প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে নয়, দেশের সাধারণ মানুষ হিসেবে বলতে চাই, সিনেমার মতো বড় একটি মাধ্যমে ধস নেমে আসা ভয়াবহ বিষয়। একজন শাকিব খান আছেন বলেই এখনও আমাদের চলচ্চিত্রে নতুন কিছু পাওয়ার আশাটা বেঁচে আছে। পাশাপাশি আরও কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী ও তরুণ নির্মাতারা চেষ্টা করছেন, ভালো ও ব্যতিক্রমী কাজের মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে। তাদের ওপর আমাদের যত আশা-ভরসা। আর প্লেব্যাকের কথা যদি জানতে চান, তাহলে স্বীকার করতেই হয়, দিন দিন অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছেন এখনকার প্লেব্যাক শিল্পীরা। আলাউদ্দিন আলী, আলম খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মতো কিংবদন্তি সুরকাররা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই শূন্যতা যেমন আছে, তেমনি সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে কমে গেছে গানের সংখ্যা। হাতেগোনা জনপ্রিয় কয়েকজন শিল্পী নিয়মিত প্লেব্যাকের সুযোগ পাচ্ছেন। সেটিও আগের তুলনায় অনেক কম।  

 

আরও পড়ুন

×