ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে শোকবার্তায় যা লিখলেন মোদিসহ বলিউড তারকারা
ধর্মেন্দ্র। ছবি: এনডিটিভি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৬:২২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:৩১
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন। সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। আজ বিকেলে মুম্বাইয়ের পবন হংস শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
ধর্মেন্দ্রর ৯০তম জন্মদিন (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সামনে থাকলেও তার আগেই ভারতজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভিনেতার মৃত্যুর পর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
এ ছাড়া বলিউডের অভিনয়শিল্পী অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, সালমা আগা, রণবীর সিং, দীপিকা পাড়ুকোন, কারিনা কাপুর খান, কাজল, কিয়ারা আদভানি, করণ জোহর, মণীশ মলহোত্রাসহ বহু তারকা সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতি–শোকবার্তা পোস্ট করেছেন।
শোক প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “ধর্মেন্দ্রজির মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক যুগের অবসান ঘটাল। তিনি ছিলেন এক আইকনিক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব-অসাধারণ প্রতিভাবান অভিনেতা, যিনি প্রতিটি চরিত্রে এনেছেন নান্দনিকতা ও গভীরতা। তাঁর অভিনয় অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে রেখেছে অবিস্মরণীয় দাগ। সরলতা, বিনয় ও আন্তরিকতার জন্য ধর্মেন্দ্রজি সমানভাবে শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। এই শোকের সময়ে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও অসংখ্য ভক্তের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। ওম শান্তি।”
প্রবীণ অভিনেত্রী সালমা আগা এনডিটিভিকে বলেন, “ধর্মেন্দ্রজি স্বপ্নের মতো একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর মতো মানুষ আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তিনি পর্দায় যেমন ছিলেন, ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন তেমনই উজ্জ্বল। এমন মানুষ কখনো বিদায় নেন না।”
প্রবীণ অভিনেত্রী ও কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমারের স্ত্রী সায়রা বানু বলেন, “ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু মেনে নেওয়া অসম্ভব। দিলীপ সাহেব (দিলীপ কুমার) তাঁকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতোই ভাবতেন। তিনি প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসতেন- আড্ডা দিতে, খেতে, আর কখনও কখনও দিলীপ সাহেবের সঙ্গে বসে পান করতে। এই বিষয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় আমি নই। আমি তাঁকে সারা জীবন মনে রাখব।”
স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জি এনডিটিভিকে বলেন, ‘তিনি হি-ম্যান ছিলেন না, ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি ছিলেন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বড় মাপের মানুষ ছিলেন এবং সেভাবেই চিরকাল থাকবেন।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, যিনি ২০২৩ সালের রকি অউর রানি কি প্রেম গল্প-এ ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এই নির্মাতা লিখেছেন, ‘একটি যুগের সমাপ্তি। তিনি ছিলেন মেগাস্টার, মূলধারার সিনেমার প্রকৃত হিরো, অনন্য ব্যক্তিত্ব। শুধু পর্দার কিংবদন্তিই নন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন সেরা। পুরো ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ভালোবাসত।”
শোক প্রকাশ করে অজয় দেবগণ লিখেছেন, ‘ধর্মাজির মৃত্যুর খবর শুনে মন ভেঙে গেল। তাঁর উষ্ণতা, উদারতা ও উপস্থিতি শিল্পকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রাণিত করেছে। ভারতীয় সিনেমা হারাল এক কিংবদন্তিকে, আর আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি এই ইন্ডাস্ট্রির আত্মাকে রূপ দিয়েছেন। শান্তিতে ঘুমান, ধর্মাজি। ওম শান্তি।’
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় ধর্মেন্দ্রকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১২ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। আজ সকালে নিজ বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার আয়োজিত প্রতিভা প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি সিনেমায় সুযোগ পান। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় করেছেন। কখনো অ্যাকশন হিরো, কখনো রোমান্টিক নায়ক; কখনো আবার কাঁদিয়েছেন দর্শককে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে ধর্মেন্দ্রর অবদান অসামান্য। ১৯৯৭ সালে তিনি পান ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেয় পদ্মভূষণ, দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আর ২০১৭ সালে বাবাসাহেব আম্বেদকর অ্যাওয়ার্ড তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।
ধর্মেন্দ্র অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র হবে শ্রীরাম রাঘবনের বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধনির্ভর ড্রামা ‘ইক্কিস’, যেখানে প্রধান চরিত্রে আছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা। ছবিটি মুক্তি পাবে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫। সূত্র: এনডিটিভি
- বিষয় :
- ধর্মেন্দ্র
