ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

দুই স্ত্রী, ছয় সন্তান ও কত সম্পত্তি রেখে গেলেন ধর্মেন্দ্র

দুই স্ত্রী, ছয় সন্তান ও কত সম্পত্তি রেখে গেলেন ধর্মেন্দ্র
×

ধর্মেন্দ্র। ছবি: পিটিআই

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:১৪ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:২৭

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র (৮৯) মারা গেছেন। সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বলিউড সিনেমার ইতিহাসে যার গুরুত্ব বিশেষভাবে উজ্জ্বল, সেই তারকার পরিধি শুধুমাত্র সিনেমার পর্দায় নয়, একটা গোটা প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখবে তাঁর কর্ম দিয়ে। নিজের পরিবারের জন্যও বিরাট কিছু রেখে গেছেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানার নসরালি গ্রামে স্কুলশিক্ষক কেওয়াল কৃষাণ সিং দেওল এবং স্ত্রীর সৎওয়ন্ত কৌরের ঘরে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। লালটন কালান সরকারি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি, পরে ফাগওয়ারার রামগড়িয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করেন। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেওয়া হয়নি।

১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার আয়োজিত প্রতিভা প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি সিনেমায় সুযোগ পান। প্রথম সিনেমা ‘দিল ভি তেরা, হাম ভি তেরে’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন। কিন্তু জনপ্রিয়তা আসে ‘শোলা অউর শবনম’ আর ‘বন্দিনী’র পর। ‘শোলে’ সিনেমার পর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনয় জীবনে করেছেন তিন শতাধিক সিনেমা। 

অভিনয়ে পা রাখার অনেক আগে ১৯৫৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন প্রকাশ কৌরকে। প্রথম সংসারে চার সন্তান- ছেলে সানি ও ববি, এবং দুই মেয়ে বিজয়তা ও অজীতা।

দেওল পরিবারের প্রথম উত্তরাধিকারী সানি দেওল- অভিনেতা, পরিচালক এবং বর্তমানে সাংসদ। স্ত্রী পূজা দেওলের সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে- করণ ও রাজবীর। রাজবীর ‘দো নো’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেছেন। দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী ববি দেওল অভিনেতা ও প্রযোজক। তার স্ত্রী তানিয়া আহুজা পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তাঁদের দুই ছেলে- আর্যমান ও ধর্ম। প্রকাশ কৌরের দুই মেয়ে স্পটলাইটের বাইরে।


দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনীর সঙ্গে ধর্মেন্দ্র

১৯৮০ সালে ‘সীতা আউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘রাজা জানি’সহ একাধিক হিট ছবির সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্র। সে সময় তাঁর প্রথম বিয়েও বজায় ছিল- ফলে সম্পর্ককে ঘিরে দীর্ঘ বিতর্ক অব্যাহত ছিল। তবু চার দশক পেরিয়ে টিকে থেকেছে সেই দাম্পত্য। হেমা মালিনীর সংসারে দুই কন্যা- ঈশা ও অহনা।

ঈশা দেওল অভিনয়ে পরিচিত মুখ। প্রাক্তন স্বামী বরাত তাখতানির সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ে- রাধ্যা ও মিরায়া। অহনা দেওল শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী ও উদ্যোক্তা। স্বামী বৈভব ভোহরার সঙ্গে তাঁর পরিবারে তিন সন্তান- যমজ কন্যা অ্যাস্ট্রেয়া ও অ্যাডেয়া ও ছেলে ড্যারিয়ান।

হেমা মালিনী ও দুই মেয়ে থাকেন মুম্বাইয়ে, আর ধর্মেন্দ্র জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন প্রথম পরিবারের সঙ্গে। তবুও দুই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। বিয়ে, জন্মদিন, বিশেষ অনুষ্ঠান, সবখানেই দেখা মিলেছে অভিনেতার।

স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ধর্মেন্দ্র

একসময় তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন। সে সময়ের হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রতিটি চলচ্চিত্রে পারিশ্রমিক নিতেন ৫ থেকে ১৫ লাখ রুপি, যা তখনকার ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল অবিশ্বাস্য। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ১৯৭৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘শোলে’। এই সিনেমায় বীরু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ধর্মেন্দ্র পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫০ লাখ রুপি।

আর্থিক ক্ষেত্রেও সুদীর্ঘ কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা গড়েছেন ধর্মেন্দ্র। ছয় দশকের ক্যারিয়ারে ফিল্ম, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন বিনিয়োগে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৪৫০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

কেবল সফল নায়ক নয়, ধর্মেন্দ্র রেখে গেলেন ঐতিহ্য, জনপ্রিয়তা, স্মৃতি এবং এক সুবিশাল চলচ্চিত্র-পরিবার। তার অনুপস্থিতিতে বলিউড শূন্যতা অনুভব করবে সবসময়। সূত্র: এনডিটিভি ও দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন

×