ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মালকা বানুর দেশে রে... জাভেদের সিনেমার এই গান প্রজন্ম পেরিয়ে মুখে মুখে ফিরেছে

মালকা বানুর দেশে রে... জাভেদের সিনেমার এই গান প্রজন্ম পেরিয়ে মুখে মুখে ফিরেছে
×

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৪:০২

‘মালকা বানুর দেশে রে…’-একটি গান, একটি প্রেমগাথা, আর বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের এক অনন্য স্মৃতি। জাভেদ ও শাবানার অভিনয়ে এই গান শুধু একটি চলচ্চিত্রের অংশ ছিল না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে উঠেছিল লোকমুখে ঘুরে বেড়ানো এক সাংস্কৃতিক আবেগ।

ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত ‘মালকা বানু’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালের ১৫ নভেম্বর। ছবির কাহিনিতে সওদাগর আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর ছিল এক কন্যা ও সাত পুত্র। একদিন মনু মিয়া পাইক-পেয়াদাদের নিয়ে বাঁশখালীর সরল গ্রামে যান। পথের ক্লান্তি দূর করতে তাঁরা আশ্রয় নেন সওদাগরের বাড়িতে। সেখানেই মনু মিয়ার চোখে পড়ে অনিন্দ্যসুন্দরী কন্যা মালকা বানু।যিনি তখন কাজির মক্তবে অধ্যয়নরত। সেই প্রথম চোখের মিলনেই জন্ম নেয় ভালোবাসা। মালকা বানুর প্রেমে পড়েন মনু মিয়া।

এই মালকা বানুর চরিত্রে অভিনয় করেন শাবানা এবং মনু মিয়ার ভূমিকায় ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। নানা ঘটনা–অঘটনের মধ্য দিয়ে মালকা বানুকে বিয়ে করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসেন মনু মিয়া। এরপরই ছবিতে আসে সেই কালজয়ী গান—‘মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য, আল্লাহ বাজেরে মনু মিঞার দেশেরে বিয়ার বাদ্য, আল্লাহ বাজেরে মালকা বানুর সাথে রে…’

গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সত্তর ও আশির দশকে গ্রাম থেকে শহর-সবখানেই মানুষের মুখে মুখে ফিরত। এই বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই পরবর্তীতে নির্মিত হয় ছবিটির রঙিন সংস্করণ।

১৯৯১ সালে সুপারহিট এই চলচ্চিত্রটির পুনর্নির্মাণ করা হয় ‘রঙিন মালকা বানু’ নামে। কামরুজ্জামান পরিচালিত ছবিটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পা। এই সংস্করণটিও বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পায়।

তবে মালকা বানু ও মনু মিয়ার গল্প কেবল পর্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাভেদ–শাবানার সিনেমা এবং সেই জনপ্রিয় গানের সুবাদেই মানুষের আগ্রহ জন্মায় এই প্রেমকাহিনিকে ঘিরে। লোককাহিনি ও ঐতিহাসিক সূত্র ঘেঁটে জানা যায়, মনু মিয়া শুধুই কল্পনার চরিত্র নন। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা গ্রামে এখনো রয়েছে তাঁর নির্মিত একটি মসজিদ। অন্যদিকে, মালকা বানুর স্মৃতিচিহ্ন পাওয়া যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে—সেখানে রয়েছে মালকা বানুর নামে একটি মসজিদ ও দিঘি।

প্রচলিত নানা কাহিনি অনুযায়ী, মালকা বানু ছিলেন মনু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী খোরসা বানুর কোনো সন্তান ছিল না। বাস্তব আর কল্পনার মিশেলে গড়ে ওঠা এই প্রেমগাথাই ‘মালকা বানু’কে পরিণত করেছে বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায়ে।
 

আরও পড়ুন

×