ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর হাতধরে বিশ্ববাজারে বাংলা সিনেমার একদশক

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর হাতধরে বিশ্ববাজারে বাংলা সিনেমার একদশক
×

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ২০:৫১ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ২০:৫৬

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো ১০ বছর পূর্ণ করল। ২০১৬ সালের ৩ মে কানাডায় মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীবের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান একই বছরের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে। 

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে হল ভাড়া করে সীমিত পরিসরে সিনেমা প্রদর্শনকে আন্তর্জাতিক বাজার বলা হতো, যা আসলে বাস্তব বাজার তৈরি করতে পারেনি। তিনি বলেন, হল ভাড়া করে নিজেরা টিকিট ছাপিয়ে ছবি দেখানো আর আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি—এই দুইটা এক জিনিস না। এভাবে কোনো দেশের ছবির বিশ্ববাজারে কোনো অস্তিত্ব তৈরি হয় না।'

একটা দেশের সিনেমাকে বিশ্বে নিতে হলে সেই দেশের সিনেমা হলে অফিসিয়ালি মুক্তি দিতে হয়—এটাই একমাত্র পথ। এই ভাবনা থেকেই স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর যাত্রা। এর অল্পদিনের মধ্যেই ২০১৬ সালের ২৭ মে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে থিয়েট্রিক্যালি মুক্তি পায় বাংলাদেশি সিনেমা 'অস্তিত্ব'। কানাডার বৃহৎ সিনেমা চেইন সিনেপ্লেক্স এর টরন্টোতে প্রথম সপ্তাহেই ২৪টি শো দিয়ে শুরু হয়েছিল সিনেমাটির প্রদর্শনী।

তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অনিশ্চয়তায় ভরা সময়। বিশ্বের বড় বড় সিনেমা চেইনের সঙ্গে যোগাযোগ, সঠিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বের করা—সবই ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। শুরুতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দর্শকসংখ্যার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ধীরে ধীরে হলসংখ্যা বাড়ানো।

তিনি আরো বলেন ‘শুরুতে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল-বাংলাদেশের সিনেমাও নতুন অডিয়েন্স তৈরি করতে পারে, সেটি প্রমাণ করা। সেই জায়গা থেকে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়েছি, এখনও সেই যাত্রা চলমান।’

২০১৬ সালের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া আয়নাবাজি এই যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাত্র চারটি হলে মুক্তি পেয়েও ছবিটি আয় করে প্রায় ৫৪ হাজার ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সিনেমার সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

এরপর ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বড় সিনেমা চেইনগুলোতেও বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তি পেতে শুরু করে। সেই সময়ের আরেকটি সফল উদাহরণ ঢাকা অ্যাটাক, যা তিনটি আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে আয় করে প্রায় ৬২ হাজার ডলার।

প্রথম দশকে বড় লক্ষ্য ছিল উত্তর আমেরিকার বাজারে হলিউড ও ভারতীয় সিনেমার পর বাংলাদেশি সিনেমার একটি অবস্থান তৈরি করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০২২ সালে একসঙ্গে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০টি সিনেমা হলে ছবি মুক্তির উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং দর্শকভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় সম্ভাবনাময় হলগুলো।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে 'হাওয়া' সিনেমার মাধ্যমে। ৮৮টি হলে মুক্তি পেয়ে ছবিটি আয় করে প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, আমরা শুরু করেছিলাম কোনো রেফারেন্স ছাড়াই। আজ আমাদের এই পথটাই অনেকের জন্য রেফারেন্স হয়ে উঠছে। এটা শুধু ব্যবসা নয়, এটা বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বে পরিচিত করে তোলার একটি চেষ্টা।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্লকবাস্টারের তালিকায় আছে আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক, দেবী, প্রিয়তমা, জংলি ও উৎসব।  সর্বশেষ 'হাওয়া' সিনেমার রেকর্ড ভেঙে দেয় বনলতা এক্সপ্রেস।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর দশ বছরের এই পথচলা নিয়ে বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী সৈকত সালাহউদ্দিন বলেন, এই ১০ বছরের পথচলায় নানা বাধা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ ছিল, যা ধীরে ধীরে অতিক্রম করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×