স্টারডম তো ক্ষণস্থায়ী, কাজই থেকে যায়: সিয়াম আহমেদ
সিয়াম আহমেদ। ছবি: এমডব্লিউ।
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৩:২৫ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৬
সিয়াম আহমেদ। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক। গেল ঈদুল ফিতরে তাঁর অভিনীত রাক্ষস মুক্তি পায় এবং প্রশংসিতও হয়। এদিকে ঈদুল আজহা ফাঁকা। এর আগের ঈদুল আজহায়ও মুক্তি পায়নি তাঁর কোনো সিনেমা। তবে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর বেশ কিছু প্রজেক্ট। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও আগামীর কাজের পরিকল্পনা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
গত বছর রোজার ঈদে জংলি, এই বছর রোজার ঈদে রাক্ষস। কিন্তু দুই বছর ধরে ঈদুল আজহার কোনো সিনেমায় নেই আপনি...
হ্যাঁ, টানা দুই বছর গ্যাপ হয়ে গেল। আসলে আমি চাই বছরে দুই ঈদেই দর্শকদের সামনে আসতে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় সিনেমা মুক্তি দেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। এই তাড়াহুড়োর মধ্যে পড়তে চাই না। চাইলে ‘আন্ধার’ এই ঈদেই মুক্তি দেওয়া যেত, কিন্তু আমরা শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সিনেমাটা পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি দেব না। জোড়াতালি দিয়ে কোনো কাজ দর্শকের সামনে আনতে চাই না। দর্শক একটি পরিপূর্ণ সিনেমা দেখার অধিকার রাখেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর থেকে দুই ঈদেই আমাকে পাওয়া যাবে।
রাক্ষসের মাধ্যমে কমার্শিয়াল সিনেমায় এক নতুন সিয়াম আহমেদকে আবিষ্কার করেছেন দর্শক। প্রশংসার পাশাপাশি লাউড অ্যাক্টিং আর ভয়েস নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?
যেকোনো যুক্তিসংগত সমালোচনাকে আমি সবসময়ই প্রশংসা করি। আমি বরাবরই একজন ডিরেকটর্স আর্টিস্ট। যেহেতু ‘রাক্ষস’ একটি ইউনিভার্সের অংশ, সিনেমাটির নির্মাতা মেহেদি হাসান হৃদয় চেয়েছিলেন আরিয়ান মির্জা এবং রুশোকে যেন দর্শক সম্পূর্ণ আলাদা দুই চরিত্র হিসেবে অনুভব করেন। রুশো চরিত্রটাই এমন, যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাইপার, অস্থির এবং অনেক বেশি লাউড। তার এই বৈশিষ্ট্য পুরো গল্পেই একই রকম থাকে। পরিচালক যেভাবে চরিত্রটিকে কল্পনা করেছেন, আমি ঠিক সেভাবেই তাকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সিনেমাটির ভয়েস মড্যুলেশন নিয়েও ডাবিংয়ের সময় আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ‘জংলি’-তে রাহিম ভাই, ‘তাণ্ডব’-এ রাফী, আর ‘রাক্ষস’-এ হৃদয় ভাই–প্রতিটি কাজেই আমি পরিচালকের নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।

ঈদুল আজহার আগে ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে রাক্ষস। এখন সিনেমাটিতে আপনার সেকেন্ড লুকের ট্যাটু নিয়েও আলোচনা হচ্ছে...
বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে নেগেটিভ বা ডার্ক চরিত্রগুলোকে উপস্থাপন করতে বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী ট্যাটু ব্যবহার করা হয়। রাক্ষস-এর ক্লাইম্যাক্সে যে চরিত্রটিকে দেখা যায়, সে নিঃসন্দেহে একটি ডেভিলিশ চরিত্র। সেই ভাবনাকে ভিজ্যুয়ালি ফুটিয়ে তুলতেই ওই ধরনের ট্যাটু ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এটিকে কোনো কিছুর প্রচারণা বা সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলে সেটি সত্যিই দুঃখজনক। একটি চরিত্রের ভিজ্যুয়াল ভাষা আর ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা প্রচারণা এক জিনিস নয়।
রাক্ষসের পর এখন কি নিজেকে কমার্শিয়াল সিনেমার নায়ক হিসেবেই দেখতে চান?
আমি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে আটকে রাখতে চাই না। দর্শক যদি আমার কাছ থেকে একই ধরনের চরিত্র বারবার পায়, তাহলে একটা সময় তারা বিরক্ত হবে। আমি চাই প্রতিটি সিনেমায় নতুন কিছু করতে। কখনও কমার্শিয়াল, কখনও কনটেন্ট-ড্রিভেন। একজন অভিনেতা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকেই বারবার ভাঙা।
জংলি, তাণ্ডব, রাক্ষস, আন্ধার। একের পর এক বড় বাজেটের ছবিতে কাজ করছেন। বড় বাজেটের সিনেমায় চাপও তো বড়?
হ্যাঁ, আমি মনে করি যত বড় সুযোগ আসে, দায়িত্বও তত বড় হয়। একটা সময় ছিল যখন শুধু ভালো কাজ পাওয়ার চিন্তা করতাম। এখন চিন্তা করতে হয় সেই প্রত্যাশা ধরে রাখার। তবে চাপকে আমি নেগেটিভভাবে দেখি না। এই চাপই আমাকে আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে।

দারুণ দারুণ সিনেমার অংশ হচ্ছেন, হাতেও রয়েছে দারুণ কিছু ভালো কাজ। এই মুহূর্তে আপনি কী ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন।
আমি মনে করি না যে আমি আমার সেরা কাজ করে ফেলেছি বা সেরা মুহূর্ত পার করছি। বরং আমার মনে হয় এখনও অনেক কিছু করা বাকি। যেদিন মনে হবে সব অর্জন হয়ে গেছে, সেদিনই হয়তো শেখা বন্ধ হয়ে যাবে।
স্টারডম আর অভিনয়, দুটোর মধ্যে কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন আপনি?
স্টারডম (তারকাখ্যাতি বা বিখ্যাত হওয়ার অবস্থাকে স্টারডম বলা হয়) খুবই ক্ষণস্থায়ী একটা ব্যাপার। আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি কী কাজ রেখে গেলেন, সেটি অনেক দীর্ঘস্থায়ী। তাই আমি সবসময় অভিনয়কেই প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করি। স্টারডম ভালো কাজের ফল হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের সিনেমার বর্তমান সময়কে কীভাবে দেখছেন?
আমার মনে হয় আমরা একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্যে আছি। দর্শক এখন শুধু বড় তারকা দেখতে হলে আসে না, ভালো গল্পও খোঁজে। নির্মাতারা নতুন নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও উন্নতি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, দর্শক আবার বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে কথা বলছেন। এটিই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয়।
আন্ধার নিয়ে কতটা এক্সাইটেড
সত্যি বলতে, অনেক বেশি এক্সাইটেড। কারণ ‘আন্ধার’ এমন একটা সিনেমা, যেটির জন্য আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি। একজন অভিনেতা হিসেবে কিছু কিছু প্রজেক্ট থাকে, যেগুলো শুধু আরেকটি সিনেমা নয়, নিজের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ‘আন্ধার’ আমার কাছে ঠিক তেমনই।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রদর্শনী আটকে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে কী বলবেন?
খুবই দুঃখজনক। একটি সিনেমা ভালো লাগতে পারে, খারাপ লাগতে পারে, কেউ দেখতে চাইতে পারে, কেউ নাও চাইতে পারে। একটি শিল্পকর্মের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গাগুলো যত উন্মুক্ত হবে, আমরা সমাজ হিসেবে ততই এগিয়ে যাব।
আগামী এক-দুই বছরে দর্শক সিয়ামের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ আশা করতে পারে?
আমি চাই দর্শক আমাকে প্রেডিক্ট করতে না পারুক। এমন কিছু চরিত্র আর গল্পে কাজ করতে চাই, যেগুলো দেখে মানুষ বলবে, ‘সিয়ামকে এইভাবে আগে দেখিনি।’ একজন অভিনেতা হিসেবে এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে।
আন্ধার-এর পর কী?
দারুণ কিছু (হাসি)। এখনই বলে দিলে তো সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে যাবে। সময় হলে জানাব।
- বিষয় :
- সিয়াম আহমেদ
- চিত্রনায়ক
