টিভি নাটকের বাজেট ভয়াবহভাবে কমেছে, যে কারণে ভালো নাটক করা মুশকিল: লাভলু
সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: সংগৃহীত
এমদাদুল হক মিল্টন
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫৪
সালাহউদ্দিন লাভলু। নির্মাতা ও অভিনেতা। বৈশাখী টিভিতে আজ রাতে প্রচার হবে তাঁর অভিনীত ধারাবাহিক ‘গৃহযুদ্ধ’। মুহিন খান পরিচালিত এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথায় হয় তাঁর সঙ্গে
অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনি খুব বাছ-বিচার করেন। ‘গৃহযুদ্ধ’ নাটকে অভিনয়ে আগ্রহী হলেন কেন?
নির্মাতা মুহিন খান অনেক জনপ্রিয় নির্মাতা। পুবাইলে গেলেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। হঠাৎ একদিন বলল, নতুন ধারাবাহিক করছি; একটি চরিত্রের জন্য আপনাকে প্রয়োজন। পরে স্ক্রিপ্ট দেখে বুঝলাম, কাজটি করা যায়। এতে অনেক মজার চরিত্র আছে। অনেক দিন ধরেই পারিবারিক কমেডির জায়গাটা একটু ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। ‘গৃহযুদ্ধ’তে আমরা সেই নির্মল বিনোদনের স্বাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। প্রত্যাশা একটাই, দর্শক যেন নাটকটি দেখে আনন্দ পান। এখানে শুধু হাসির ঘটনা নয়; একটি পরিবারের সম্পর্ক, অহংকার, সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন এবং ভুল বোঝাবুঝির গল্পও আছে। আমার বিশ্বাস, দর্শক নিজেদের পরিবারের অনেক চেনা মানুষকে এই নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যে খুঁজে পাবেন।
নাটকের গল্পে সম্পত্তি ঘিরে যে সংঘাত, সেটি কি বর্তমান সমাজের বাস্তবতা থেকেই নেওয়া?
আমাদের সমাজে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, আত্মীয়তার টানাপোড়েন কিংবা পরিচয়ের সংকট– এসব নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমি এগুলোকে ভারি করে নয়, হাস্যরসের মাধ্যমে বলতে চেয়েছি। কারণ মানুষ হাসতে হাসতেই অনেক সময় সবচেয়ে বড় সত্য উপলব্ধি করতে পারে।
আপনি দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নাটক নির্মাণ করছেন। এখনকার দর্শকের রুচি কতটা বদলেছে?
দর্শকের রুচি বদলেছে– এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু মানুষ এখনও ভালো গল্প দেখতে চায়। শুধু গল্প বলার ধরন বদলেছে। তাই নির্মাতাদেরও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তবে পরিবারের গল্প কখনও পুরোনো হয় না।
আপনার পরিচালনায় ‘রঙের মানুষ’, ‘ভবের হাট’, ‘সাকিন সারিসুরি’ আজও দর্শকের মুখে মুখে। সে ধরনের নাটক আবার নির্মাণ সম্ভব?
সময় কখনও ফিরে আসে না। তখনকার শিল্পীদের নিষ্ঠা, সময় দেওয়ার মানসিকতা, কাজের পরিবেশ– সবকিছুই আলাদা ছিল। আজও ভালো শিল্পী আছেন, কিন্তু পুরো শিল্পব্যবস্থা বদলে গেছে। তাই সেই সময়ের মতো নাটক হুবহু আর হবে না। তবে নতুন সময়ের জন্য নতুন ভালো কাজ অবশ্যই হতে পারে।
আপনি প্রায়ই বলেন, গ্রাম ও পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের প্রতি প্রযোজকদের আগ্রহ কমে গেছে। এতে কি নির্মাতা হিসেবে হতাশ হন?
কিছুটা তো হই। কারণ আমি মানুষের গল্প বলতে ভালোবাসি। গ্রামের মানুষ, তাদের সম্পর্ক, পরিবার– এসব নিয়েই আমার ভাবনা বেশি। এখন বাজারের চাহিদা অন্য রকম। এখন তো ভিউ-ভাইরালের বাইরে কিছু নেই। প্রযোজকরা সেটার পেছনেই ছুটছেন। সুস্থ গল্পে তাদের আগ্রহ কম। তারপরও আমি বিশ্বাস করি, ভালো গল্পের দর্শক কখনও কমে না।
শুনেছি, নতুন একটি ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন?
ঠিকই শুনেছেন। জাহিদ প্রীতমের ‘ম্যারেড লাইফ’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছি। মিষ্টি প্রেমের গল্পের সিনেমায় আমার চরিত্রটি ভিন্নধর্মী।
আপনি একসময় ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সংগঠনটির ভূমিকা কীভাবে দেখেন?
ডিরেক্টরস গিল্ড শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি নির্মাতাদের অধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমি দায়িত্বে থাকাকালে চেষ্টা করেছি নির্মাতাদের স্বার্থ, কাজের পরিবেশ ও সম্মান নিয়ে কাজ করতে। এখন যারা দায়িত্বে আছেন, তারা একই দায়িত্ব পালন করছেন। নানা ধরনের কর্মশালা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ চলছে। সংগঠন শক্তিশালী হলে পুরো ইন্ডাস্ট্রিই উপকৃত হবে।
বর্তমান টিভি নাটকের সবচেয়ে বড় সংকট কী বলে মনে করেন?
টেলিভিশন নাটকের সংখ্যা ক্রমেই কমছে– এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বড় সমস্যা হচ্ছে বাজেট। সব সেক্টরেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু টিভি নাটকের বাজেট ভয়াবহভাবে কমেছে। যে কারণে ভালো নাটক করা খুব মুশকিল হচ্ছে। ইউটিউবে নাটকের বাজেট বেশি থাকায় সেখানেই সবাই ঝুঁকছে। প্রযোজকরা ভালো রিটার্ন পাচ্ছেন। সে তুলনায় টেলিভিশন নাটকের অবস্থা ভালো মনে হয় না।
আপনার পরিচালনায় নতুন ধারাবাহিক করার পরিকল্পনা কি আরও আছে?
‘ফুলগাঁও’ নামে ১২৫ পর্বের একটি ধারাবাহিকের কাজ শেষ করে টেলিভিশনে জমা দিয়েছি। শিগগিরই এটি প্রচার হবে। গল্প তো মাথায় সব সময়ই ঘোরে। ভালো গল্প, উপযুক্ত শিল্পী এবং সুন্দর প্রযোজনার পরিবেশ পেলে নতুন আরও ধারাবাহিক অবশ্যই নির্মাণ করব। আমি এখনও বিশ্বাস করি, ধারাবাহিক নাটকের শক্তিশালী দর্শক আছে।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার