'সে সময় পুরো ডিমটাও ভাগ্যে জুটত না'
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ০১:২১ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ০১:২৯
’৭১-এর রণাঙ্গনের একজন সশস্ত্র যোদ্ধা চিত্রনায়ক সোহেল রানা। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ প্রযোজকও তিনি। তার অভিনীত ও প্রযোজিত এই ছবিটি এখনও মুক্তিযুদ্ধের সিনেমার মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত ছবি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা লাভ করেছেন। সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। শুনুন তার ভাষ্যে
'মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক ঘটনাই এখনও স্পষ্ট আমার কাছে। শুধু একদিনের ঘটনার কথা বলি। সারা রাত হেঁটে খুব ক্লান্ত হয়ে কেরানীগঞ্জের আটি বাজারের কাছে গেলাম। তখন প্রচণ্ড ক্ষুধা। আমার বন্ধু মোস্তফা মহসিন মন্টু বলল, দেখ কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমরা গায়ে চাদর জড়িয়ে বাইরে বের হতাম। কারণ চাদরের আড়ালে স্টেনগান থাকত। আমরা হাঁটছিলাম খাবারের সন্ধানে। একটা বাড়ির সামনে গিয়ে দেখলাম কতগুলো মুরগি ছোটাছুটি করছে। কিছু মুরগি বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হল, এ বাড়িতে অনেক মুরগি রয়েছে। হয়তো ডিমও পাওয়া যাবে। হাতে যা পয়সা আছে তা দিয়ে ডিমগুলো কিনে নিলে আমরা খেতে পারব। বাড়িতে ঢুকে এক বয়স্ক মহিলার সঙ্গে দেখা।
তাকে বললাম, ‘মা, আমাদের কাছে কিছু ডিম বিক্রি করবেন’? সে বলল, ‘বাবা ডিম তো নেই।’ শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এরপর আমি মন খারাপ করে চলেই আসছিলাম। দশ-বিশ কদম হাঁটার পর ঘুরে আবার পেছন দিকে তাকালাম। দেখি একটি লোক ওই মহিলার কাছ থেকে দুটো ডিম নিয়ে যাচ্ছে। দেখেই আমার খুব রাগ হল। গায়ের চাদর সরিয়ে বন্দুক দেখালাম। কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম ডিম থাকা সত্ত্বেও আমাকে দিলেন না কেন? মহিলা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘ডিম কোথায়?’ আমি বললাম, ‘এইমাত্র আপনি ওই লোকটিকে ডিম দিলেন, তখন মহিলা বললেন, ‘ওইটা তো ডিম নয়। আমি ওকে বদা দিয়েছি।’ ডিমকে ওরা আঞ্চলিক ভাষায় ‘বদা’ বলত। বুঝলাম, ডিম বলাতে মহিলা সেটি কী জিনিস চিনতে পারেননি। পরে ওই মহিলা আমাদের ত্রিশটা ডিম দিয়েছিলেন। কোনো দাম নেননি। ডিমগুলো এনে আমরা সিদ্ধ করেছি। একটা করে ডিমও আমাদের ভাগে পড়েনি। অর্ধেক করে খেয়েছি।
- বিষয় :
- সোহেল রানা
- ওরা ১১ জন
- স্মৃতি
- মুক্তিযোদ্ধ
