ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গবেষণা

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে বৈপ্লবিক সাফল্য

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে বৈপ্লবিক সাফল্য
×

ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংগৃহীত

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ০১:০৭ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে কটি রোগ মানুষের ওপর ভয়াবহ রূপে বিস্তার ঘটাচ্ছে, তার মধ্যে নারীর স্তন ক্যান্সার অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন বিশ্বে প্রতি আটজনের মধ্যে এক নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তুলনামূলক কম হলেও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন পুরুষরাও। নারী ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ১৯ শতাংশ স্তন ক্যান্সারে ভোগেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে এর হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ক্যান্সার গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসির হিসাব বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৩ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। মারা যান ছয় হাজারের বেশি। এমন পরিস্থিতিতে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়ে সুখবর দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তারা আবিষ্কার করেছেন, কীভাবে স্তন ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কীভাবে তা শুরুতেই রোধ করা যেতে পারে।

এ-বিষয়ক গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এমবো রিপোর্টসে প্রকাশ হয়েছে। স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় স্কটিশ এই গবেষণা বা আবিষ্কারকে বৈপ্লবিক আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। সেটি রক্তনালির কোষ-রস ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার।

স্কটিশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা গবেষণায় দেখেছেন, স্তন ক্যান্সার শরীরের নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধী কোষের বিপাক ক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ওই কোষগুলো ইউরাসিল নামের একটি বিশেষ প্রোটিন নিঃসরণ করে। এই প্রোটিনই ক্যান্সার কোষের অন্যতম ভরসাস্থল, যার মাধ্যমে তা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে যায়। গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় এই স্ক্যাফোল্ড সৃষ্টি প্রতিরোধে সফল হয়েছেন। ফলে ইউরাসিল প্রোটিন ছড়িয়ে পড়তে পারছে না। ইউরিডিন ফসফোরাইলেজ-১ বা ইউপিপি১ নামে একটি নির্দিষ্ট এনজাইমকে অবরুদ্ধ করে তারা শরীরে ইউরাসিল উৎপন্ন হওয়া থামাতেও সক্ষম হয়েছেন। ফলে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা আবার সক্রিয়ভাবে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পেরেছে এবং তা ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ক্যাসি ক্লার্ক বলেন, এই গবেষণা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাধারায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা পরিচালক ড. ক্যাথরিন এলিয়ট বলেন, বিস্তারের প্রবণতাই স্তন ক্যান্সারকে বেশি মারাত্মক করে তোলে। এই গবেষণার ফলে তা শুরুতেই চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যান্সার নাওয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাইমন ভিনসেন্ট বলেন, এখন প্রয়োজন আরও গবেষণা, যাতে এই আবিষ্কারকে ওষুধে রূপ দেওয়া যায়।
কেন হয় স্তন ক্যান্সার চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের বেপরোয়া আধুনিক জীবনাচরণ এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন যে কোনো ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া কারও পরিবারে কেউ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মের কারও তা হতে পারে। যেসব মেয়ের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে।

এর বাইরে তেজস্ক্রিয়তা, দেরিতে সন্তান নেওয়া, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, শাকসবজি বা ফলমূলের চেয়ে চর্বি ও মাংস বেশি খাওয়ার প্রবণতা, প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি গ্রহণ, অতিরিক্ত ওজন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া যেসব নারী দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাচ্ছেন বা হরমোনের ইনজেকশন নেন, তারাও ঝুঁকিতে থাকেন। তবে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার শতভাগ নিরাময়যোগ্য। খবর মেইল অনলাইনের।

আরও পড়ুন

×