হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তুরস্কের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনা মহামারিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে আসছে তখন তুরস্কের লোকজন নিজেদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধযুক্ত স্যানিটাইজার ’কলোনিয়া’র দিকে ঝুঁকছেন।
‘কলোনিয়া’ শব্দটি শত শত বছর আগের অটোমান সাম্রাজ্যের পর থেকে তুর্কিতে আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যের এক মূল্যবান প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি প্রায়শই তুরস্কের জাতীয় গন্ধ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে, মিষ্টি গন্ধ যুক্ত এই সুগন্ধিটি তৈরি করা হয় ডুমুর ফুল, জুঁই, গোলাপ আর সাইট্রাসের উপাদান দিয়ে ।
সাধারণত এই সুগন্ধিটি ওই দেশে বাড়ি, হোটেল এবং হাসপাতালে প্রবেশের সাথে অতিথিদের হাতে ছিটানো হয়।
এছাড়া রেস্তোরাগুলিতে খাবার শেষ করার পর বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার জন্য জড়ো হলেও এই সুগন্ধি ছিটানো হয়।
দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য প্রাকৃতিক সুগন্ধির তুলনায় ইথানল-ভিত্তিক উচ্চ অ্যালকোহল থাকা এই সুগন্ধিটি শতকরা ৮০ ভাগ জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। এ কারণে এটি হাতের জীবাণুনাশক হিসেবে দারুণ কার্যকর।
মার্চের মাঝামাঝিতে তুরস্কে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে দেশটিতে কলোনিয়া সুগন্ধির চাহিদা বেড়ে গেছে। কয়েকজন কলোনিয়া উত্পাদক জানিয়েছেন, তাদের বিক্রি কমপক্ষে পাঁচগুণ বেড়েছে।
ইস্তাবুলের এক চিকিৎসক ড. হাতিরা টোপাক্লি বলেছেন, কলোনিয়া করেনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে বেশ কার্যকর। কারণ এতে কমপক্ষে ৬০ ভাগ অ্যালকোহল আছে। এটি ভাইরাসের সেল ধ্বংস করে। তিনি আরও বলেন, তুরস্কে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি জীবাণুনাশকের ব্যবহার খুব কম হয়। মানুষ আগে থেকেই জীবাণূ ধ্বংসের জন্য কলোনিয়া সুগন্ধিটি ব্যবহার করছে। এটি তাদের প্রতিদিনের রুটিনেরই একটি অংশ।
