ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

মমতার তৃণমূল কার্যালয় দখলে নিলেন দলের বিদ্রোহীরা

মমতার তৃণমূল কার্যালয় দখলে নিলেন দলের বিদ্রোহীরা
×

মমতার দলীয় কার্যালয়ের সামনের চিত্র।

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৫ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৬

দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক মেট্রোপলিটন এলাকার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে যান তারা। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষই প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে ছিলেন বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ কয়েকজন বিধায়ক।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতা আখরুজ্জামান বলেন, এই দলীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই কার্যালয়টির দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি দাবি করেন, ভবনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে তারা কার্যালয়টি পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে নতুন পোস্টারও টানানো হয়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পরামর্শদাতা। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

অন্যদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্যতম নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। বিদ্রোহী শিবিরের পদক্ষেপকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।

কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলীয় কার্যালয় ঘিরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিজেদেরই "আসল তৃণমূল" বলে দাবি করে। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বলেন, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জেলা পরিষদের সদস্য তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাই দলীয় প্রতীক বা দলের নাম নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যেই তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেতা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দলীয় কার্যালয় সংক্রান্ত ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সেই আলোচনার পর নিজের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান এবং সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

চন্দ্রিমা বলেন, ‘আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতদিন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আর দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন

×