ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রোটিন নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি

রসায়নে নোবেল তিন বিজ্ঞানীর

রসায়নে নোবেল তিন বিজ্ঞানীর
×

বিজ্ঞানী ডেভিড বেকার, ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন এম জাম্পাস

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৪ | ০৯:৩৫

জীবনের মৌলিক উপাদান প্রোটিন নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড বেকার ও জন এম জাম্পার এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডেমিস হ্যাসাবিস। এ তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে পুরস্কারের ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার বা ১০ লাখ ৬২ হাজার ৩৮১ ডলারের অর্ধেক পাবেন ডেভিড বেকার। বাকি দুজন অর্ধেক অর্থ ভাগ করে নেবেন।

গতকাল বুধবার দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে একাডেমি জানায়, কম্পিউটেশনাল প্রোটিন ডিজাইন ও প্রোটিনের গঠন অনুমানের জন্য তাদের এ বছর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাদের এ কাজ দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, গঠন ইত্যাদি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডেভিড বেকার ‘কম্পিউটেশনাল প্রোটিন ডিজাইন’ নিয়ে গবেষণা করেছেন। ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন এম জাম্পার প্রোটিনের কাঠামো নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার একটি মডেল আবিষ্কার করেছেন। বেকার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের অধ্যাপক। ডেমিস হ্যাসাবিস যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি গুগলের ডিপমাইন্ড প্রজেক্টে কাজ করছেন। জন জাম্পারও হ্যাসাবিসের মতোই গুগলের ডিপমাইন্ডের গবেষক। 

একাডেমির বিবৃতিতে বলা হয়, কৃত্রিম উপায়ে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্রোটিন তৈরির কীর্তি গড়েছেন বেকার। অন্যদিকে হ্যাসাবিস এবং জাম্পার এমন একটি এআই মডেল তৈরি করেছেন, যা দিয়ে যে কোনো প্রোটিনের জটিল কাঠামোর অনুমান বা ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব। 

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথা অনুযায়ী অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ৭ অক্টোবর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। চিকিৎসায় মাইক্রোআরএনএ নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাবকুন নামের দুই মার্কিন বিজ্ঞানী। তাদের আবিষ্কার পৃথিবীতে মানুষের জীবন কী জটিল উপায়ে বিকশিত হয়েছে এবং কীভাবে মানবদেহ বিভিন্ন টিস্যু দিয়ে গঠিত– তার ব্যাখ্যায় সহায়তা করে। ৮ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জন জে হপফিল্ড ও জফ্রি ই হিন্টন। কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যন্ত্রের শিখন পদ্ধতি সম্ভবপর করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের গবেষণা যন্ত্রের শিখন পদ্ধতি ও এআই, তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ১৯০১ সাল থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। তাঁর নামের সঙ্গে সংগতি রেখে পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। অর্থের পাশাপাশি একটি স্বর্ণপদক ও প্রশংসাপত্রও দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সাহিত্যের নোবেল ঘোষণা করা হবে। আগামীকাল শুক্রবার শান্তি ও আগামী ১৪ অক্টোবর অর্থনীতির নোবেল বিজয়ীদের নামের ঘোষণা আসবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার।

যার নামে ও অর্থায়নে নোবেল পুরস্কার, সেই আলফ্রেড নোবেলকে কেউ বলেন মৃত্যুর কারবারি, কেউ বলেন শান্তির দূত। একাধারে একের পর এক বিস্ফোরক ও যুদ্ধাস্ত্রের উপাদান আবিষ্কার করেছেন, সারা ইউরোপে বিরাট বিরাট কারখানা গড়ে তুলে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ উপার্জন করেছেন, কিন্তু জীবনযাপন করেছেন একাকী, নিরাসক্ত। জীবনে কোনোদিন ধূমপান করেননি, মদপান করেননি, এমনকি বিয়েও করেননি। তেমন কোনো বন্ধুবান্ধবও ছিল না আলফ্রেড নোবেলের। প্রথম জীবনে কবি হতে চেয়েছিলেন, অনেক কবিতাও লিখেছিলেন। প্রেম ছিল সেসব কবিতায়, ক্ষোভও ছিল। কিন্তু কোনো রচনাই তিনি প্রকাশ করেননি। অন্তর্মুখী এই মানুষটি একদিকে শক্তহাতে ইন্ডাস্ট্রি ও ব্যবসা সামলেছেন, অন্যদিকে নিরলস গবেষণায় আবিষ্কার করেছেন একের পর এক নতুন বিস্ফোরক। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছিলেন, যে দেয়াল ভেদ করে তাঁর মনের খোঁজ পাওয়া সম্ভব ছিল না কারোই। 

আরও পড়ুন

×