ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শি, মোদি, পুতিনের ঐক্যের বার্তা

শি, মোদি, পুতিনের ঐক্যের বার্তা
×

চীনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে বিশেষ মুহূর্তে (বাঁ দিক থেকে) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং- এএফপি

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৭

ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্বের ২০টি দেশের অংশগ্রহণে চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে দুই দিনব্যাপী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সম্মেলনের পর্দা নামে, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক কাতারে এসে ঐক্যের বার্তা দিতে দেখা গেছে। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়া ও ভারতের নেতাদের পাশে নিয়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিশ্লেষকরা এটাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে এবং সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা অনুশীলন করতে হবে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তাঁর এ বক্তব্য সূক্ষ্মভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রতি কটাক্ষ। শি বলেন, বিশ্ব শাসন একটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে।

তিয়ানজিনে এবারের এসসিও সম্মেলনে ২০টিরও বেশি অ-পশ্চিমা দেশের নেতারা অংশ নিয়েছেন। উৎসাহ নিয়ে অংশ নেন রাশিয়ার পুতিন ও ভারতের মোদিও। সংহতির মনোভাব প্রকাশের জন্য তৈরি একটি ছবিতে পুতিন ও মোদিকে হাত ধরে শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে শির দিকে আনন্দের সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তারা তিনজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান, হাসেন।
গবেষণা সংস্থা দ্য চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওলান্ডার লেখেন, ‘দৃশ্যটি কোরিওগ্রাফ করা হয়েছে, নাকি তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি– তা বলা কঠিন। আসলে এটা গুরুত্বপূর্ণও নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগীরা যদি ভেবে থাকেন– তারা চীন, ভারত বা রাশিয়াকে চাপে ফেলতে শুল্ক প্রয়োগ করবেন, তবে এ সাক্ষাৎ ভিন্ন কথা বলছে।’

শীর্ষ সম্মেলনের পর মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাঁজোয়া অরাস লিমোজিনে ভ্রমণ করেন। পরে এক্সে তিনি লেখেন, ‘তাঁর (পুতিন) সঙ্গে কথোপকথন সর্বদা অন্তরিকতায় পূর্ণ।’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন রুশ ভাষায় মোদিকে ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় বন্ধু’ বলেও সম্বোধন করেন। 

চীন ও ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতা। এর জেরে ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর জেরে সম্মেলনে শি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের ওপর জোর দেন। তিনি এসসিওর ‘বড় আকারের বাজার’ ও অর্থনৈতিক সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেন। 

দুই দশক আগে এসসিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্লক হিসেবে গঠিত হয়, যার সদরদপ্তর বেইজিংয়ে। চীন, রাশিয়া ও চারটি মধ্য এশিয়ার দেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ২০১৭ সালে ভারত এতে যোগ দেয়। ১০টি সদস্য দেশের মধ্যে আরও আছে পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। বিশ্লেষকরা এসসিওকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রথাগত জোটের গ্রহণ অযোগ্য বিকল্প হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 

আরও যা বললেন শি
সম্মেলনে চীনের নেতা শি জিনপিং বলেন, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দিনে দিন ‘অরাজক ও গোলযোগপূর্ণ’ হয়ে পড়ছে। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ‘মোড়লের মতো আচরণ করছে’ অভিযোগ তুলে এ প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, শি এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই আকার ইঙ্গিতে বলেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, জোটের সদস্যদের সামনে থাকা নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এখন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় ঝামেলাপূর্ণ। পুরো পৃথিবী এখন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে’ তিনি বলেন, সবাইকে সাংহাইর (জোটের) চেতনা অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন

×