চন্দ্রাভিযান
যে ছবি পৃথিবীকে ভালোবাসতে শেখাবে
জুবায়ের কেওলিন
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
আর্টেমিস-২ আমাদের নতুন নতুন ছবি উপহার দিচ্ছে। সেসব ছবি নতুন করে তুলে ধরছে মহাকাশের নানা বিষয়। এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের পাঁচটি ছবি নিয়ে লিখেছেন বাংলাদেশি মহাকাশ আলোকচিত্রী জুবায়ের কেওলিন
চাঁদের অদেখা পাশ
আর্টেমিস-২-কে একটি মহড়া মিশন বলা যায়, যার মাধ্যমে তারা ওরায়েন নামে নতুন যানটি বিস্তারিত পরীক্ষা করছে। এবার চাঁদে অবতরণ না করে চাঁদের পেছন দিক দিয়ে চারজন নভোচারী ঘুরে এসেছেন। এটি করতে গিয়ে তারা অ্যাপোলো-১৩-এর পৃথিবী থেকে দূরত্বের রেকর্ড ভেঙেছেন। চাঁদ সবসময় আমাদের দিকে এক পাশ ফিরিয়ে রাখে। আর যেহেতু তারা চাঁদের পেছন দিয়ে প্রদক্ষিণ করেছেন, তাই তারা ধারণ করেছেন চাঁদের অদেখা অংশ। চাঁদের ওপরের অংশটি আমরা পৃথিবী থেকে দেখতে পাই; কিন্তু নিচের অংশটি দেখতে পাই না। এখানে নিচের কালো যে ছোপটি দেখা যাচ্ছে, এর নাম অরিয়েন্টাল অববাহিকা, যা একটি প্রাচীন আঘাতজনিত গহ্বর।
নতুন করে দেখা
ক্রিস্টিনা কুক প্রকৌশলী। মহাকাশে দীর্ঘতম সময় অবস্থানের রেকর্ড আছে তাঁর। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) একটানা ৩২৮ দিন ছিলেন। দূর মহাকাশ থেকে পুরো পৃথিবীকে একদৃষ্টিতে উপভোগ করছেন তিনি। নীল গোলকটিতে আমরা সবাই আছি, শুধু নেই আর্টেমিসের চারজন নভোচারী।
রাতের পৃথিবী
পৃথিবীর রাতের অংশের ছবি। আকাশে তখন চাঁদ পূর্ণ আলোকিত ছিল। পূর্ণিমার আলো পৃথিবীর ওপর ছড়িয়ে পড়েছিল। দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শহরের আলোও। ছবিটি চমৎকার, কারণ এখানে একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যাচ্ছে। নিচের ডান অংশে আবছা যে আলোর আভা দেখা যাচ্ছে, তাকে বলে রাশিচক্রীয় আলো। আমাদের সৌরজগতের ক্রান্তিবৃত্তের ধূলিকণায় সূর্যের আলো পড়ে এই মৃদু আলোর সৃষ্টি করে।
মহাকাশে সূর্যগ্রহণ
পৃথিবীতে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক মিনিট। কিন্তু আর্টেমিসের নভোচারীরা এপ্রিলের ৬ তারিখ যখন চাঁদের পেছন ঘুরে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন, তখন তারা ৫৪ মিনিট ধরে সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। কারণ চাঁদ অনেক কাছে ছিল তাদের। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদ সূর্যকে ঢেকে রাখে। এ সময় তারা সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়তে দেখেন, যার ফলে চাঁদের বাঁ দিকটি হালকা আলোকিত লাগে। পৃথিবী এ সময় চাঁদের বাঁয়ে, ফ্রেমের বাইরে অবস্থান করছিল। চাঁদের চারপাশে আভাটিকে বলে সৌরকিরীট বা সূর্যের করোনা।
মহিয়াস্ত
সূর্যের আলো একদিকে পড়ে পৃথিবীকে বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, আর সেটি অস্ত যাচ্ছে চাঁদেরই বুকে। এটি এই শতাব্দীতে এখন পর্যন্ত কোনো মানুষের তোলা সবচেয়ে চমৎকার ছবিগুলোর একটি। আমরা সবাই আমাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিয়ে বেঁচে আছি ভাসমান ওই নীল তরীতে। তরীর কিছু হলে আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না। হয়তো কাছের জিনিস দূর থেকে দেখলেই তার মূল্য বোঝা যায়। আশা করি, এই ছবিটি নতুন প্রজন্মকে ভাবাবে, পৃথিবী সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করবে এবং ভালোবাসতে শেখাবে।
- বিষয় :
- চন্দ্রাভিযান
