হরমুজে দীর্ঘ অচলাবস্থার শঙ্কায় বিকল্পের খোঁজে উপসাগরীয় দেশ
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থার শঙ্কা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ছবি: এএফপি
আলজাজিরা
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৫৮
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি দাবি উত্তেজনার পারদকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার আশা ছেড়ে দিয়েছে তেল ও এলএনজি রপ্তানিকারী উপসাগরীয় দেশগুলো। নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা বিকল্প উপায়ের সন্ধান করছে।
সৌদি আরব রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করা হয়েছে। এ পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব। এছাড়া দেশটির পূর্ব উপকূলের ‘মানিফা’ তেল স্থাপনাটিও পুনরায় সচল করা হয়েছে। মানিফায় প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন হয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক এবং জ্বালানি পরিবাহী জাহাজের চলাচল নেই বললেই চলে। তাই এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বেসামরিক খাতের জাহাজ চলাচলের তথ্যে দেখা গেছে, রোববার মাল্টা ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। তেলের এই ট্যাঙ্কার দুটি খালি ছিল এবং সেগুলো ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাচ্ছিল। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজগুলো ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার সমুদ্রপথ মাইনমুক্ত করতে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তবে ইরান এই দাবি নাকচ করে বলেছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জাহাজ দুটিকে তারা ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। নিরপেক্ষভাবে এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
