ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছুটির দিনে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত মোদি, মমতা, কেজরিওয়ালরা

ছুটির দিনে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত মোদি, মমতা, কেজরিওয়ালরা
×

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:১০ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:১০

প্রথম দফার নির্বাচন শেষ। এবার শেষ দফার নির্বাচন। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফায় ১৪২ আসনে ভোট হবে। এই দফার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন ২৭ এপ্রিল। ফলে হাতে সময় মাত্র দুই দিন। ফলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, আমজনতা, উন্নয়ন পার্টি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)- এর মতো দলগুলি নির্বাচনী প্রচারণায় ঝড় তুলেছে। 

রোববার সরকারি ছুটির দিন। এদিন সকাল থেকেই প্রার্থীরা প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন। দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসংযোগ করছেন। এমনকি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা ক্যাম্পেইনাররাও পথে নেমেছেন। 

এদিন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারণা উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা ও বিজেপি সংসদ সদস্য রবি কিষান প্রমুখ। 

অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, মমতার ভাতিজা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, টলিউড অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের সাবেক উপ মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী। 

রোববার বিকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগায় একটি নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনামলে দুর্নীতি, অপশাসন, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, বেকারত্বসহ একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। মোদি বলেন, ‘আগে মা মাটি মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল সরকারে এসেছিল। কিন্তু এখন এদের মুখ থেকে মা মাটি মানুষ শব্দ বের হয় না। তৃণমূলের নির্মমতার কারণে মায়ের চোখে এখন পানি, মাটিকে সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং বাংলার মানুষকে পালানোর জন্য বাধ্য করেছে। এই সরকারের আমলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেবল একটাই দোকান খোলা রয়েছে- তা সিন্ডিকেট ও কমিশন। ফলে এই সরকারকে পাল্টাতেই হবে।’

বনগাঁর মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে বাংলায় এসেছে, যারা ভুয়া নথি নিয়ে এখানে বসবাস করছে, তারা যেন ২৯ এপ্রিলের আগেই বাংলা ও দেশ ছেড়ে চলে যায়। না হলে ৪ মের পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ 

প্রথম দফার নির্বাচনে ৯১ শতাংশ শতাংশের বেশি ভোট পড়া নিয়ে মোদি বলেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলা কামাল করে দিয়েছে।’ তার মতে, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপির সরকার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।’ 

এদিকে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাঁচটি নির্বাচনী কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে একটি পদযাত্রা, বাকিগুলি জনসভা।

ক্যামাক স্ট্রিটের বরদান মার্কেটের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। পরবর্তী দফায় আমরা আরেকটি সেঞ্চুরি করবো। এই কারণে বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। আর যারা ভয় পায় তারা মরে যায়। এই কারণেই ওরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গুন্ডাগিরি করছে।’ 

ভোটারদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন। আমরা ২০১৪ সাল থেকে রয়েছি। আপনারা কখনো দেখেছেন, যে এখানে কোন অসুবিধা হয়েছে? 

তার অভিযোগ, আগে দিল্লি সামলাক, তারপরে বাংলার দিকে তাকাবে। কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে যখন পাকিস্তান হামলা করল, তখন সেখানে সাঁজোয়া গাড়ি কেন পাঠানো হলো না? আর বাংলায় ২ লাখ পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা কেবল বেছে বেছে তৃণমূলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

মমতার দাবি, ‘এখানে আমি কোন ভেদাভেদ করি না। এটা হচ্ছে মিনি ইন্ডিয়া। আমি সকল ধর্মের মানুষকে ভালোবাসি। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল। সবাই মিলে একসাথে থাকাটাই বাংলার পরম্পরা ঐতিহ্য।’

আরও পড়ুন

×