ট্রাম্পের চাপেও তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে না এক্সন ও শেভরন
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ১৬:০১ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ১৬:৪২
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে হোয়াইট হাউস। সংকট কাটাতে মার্কিন প্রশাসন বারবার তেল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দিলেও তা কানে তুলছে না এক্সনমোবিল ও শেভরন।
দুই কোম্পানিই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি চাপের মুখে পড়ে তারা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে না। এক্সন-এর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নীল হ্যানসেন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, পারমিয়ান বেসিনে কোম্পানির পুরোনো কৌশলই বহাল রয়েছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
একই সুরে কথা বলেছেন শেভরনের অর্থ প্রধান ইমার বোনার। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট তাদের পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ইরান যুদ্ধের জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে তেল পরিশোধন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে করে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংকট শুরুর পর তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে চাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তিনি তেলের দাম ২ ডলারের নিচে নামানোর কথা বলেছিলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেছে এবং কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে বড় দুই কোম্পানি তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশলেই অনড় রয়েছে।
নীল হ্যানসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন করছি। নতুন করে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এখন দেখছি না, যদিও বাস্তব কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইমার বোনার জানান, তাদের মূল লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ বা নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি করা।
প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, এক্সনমোবিল-এর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৪.২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কম। মূলত ৩.৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবভিত্তিক লোকসানের কারণে এই পতন হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এক্সনের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে, কারণ তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে। কোম্পানিটি আগেই সতর্ক করেছিল, এই পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক উৎপাদন অন্তত ৬ শতাংশ কমতে পারে।
এক্সনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস এক বিবৃতিতে বলেন, প্রথম প্রান্তিকের হিসাব আমাদের প্রমাণ করেছে যে, এক্সনমোবিল এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে মৌলিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। সব ধরনের প্রতিকূলতা এবং বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সমান তালে কাজ করে যেতে পারে।
এক্সন আরও ঘোষণা দিয়েছে যে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারপ্রতি ১.০৩ ডলার করে লভ্যাংশ বা মুনাফা দেবে।
অন্যদিকে শেভরন প্রথম প্রান্তিকে ২.২ বিলিয়ন ডলার নিট আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম। তাদের হিসাবেও ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ‘পেপার লস’ রয়েছে। তবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে শেভরন কিছুটা এগিয়েছে। অধিগ্রহণ ও নতুন প্রকল্পের কারণে তাদের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।
উভয় কোম্পানি জানিয়েছে, বর্তমানে তারা উচ্চমূল্যের সুযোগ কাজে লাগাতে তাদের রিফাইনারিগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনা করছে। সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- জ্বালানি সংকট
- জ্বালানি তেল
