তেল উৎপাদনের কোটা বাড়াল রাশিয়া, সৌদির ওপেক প্লাস
জুন মাসের জন্য তেল উৎপাদনের কোটা বাড়িয়েছে ওপেক প্লাস। ছবি: রয়টার্স
এএফপি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:১৩
রাশিয়া, সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের অন্তত সাতটি দেশ রোববার অনলাইনে বৈঠক করেছে। যেখানে দৈনিক তেল উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত, উৎপাদন সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে সম্প্রতি ওপেক প্লাস থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের জন্য ওপেক প্লাসের সদস্য এবং সাতটি বড় উৎপাদক দেশ দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে। বাজারের চলমান অস্থিরতা সামাল দিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া ও সৌদি আরব ছাড়াও বৈঠকে অংশ নেয় আলজেরিয়া, ইরাক, কাজাখস্তান, ওমান ও কুয়েত। তবে এ বৈঠক সংক্রান্ত বিবৃতিতে আমিরাতের সদস্যপদ ছাড়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এএফপিকে বলেন, আমিরাতের জোট ত্যাগের বিষয়ে এই নীরবতা মূলত দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের লক্ষণ। তেলের বাজার বিশ্লেষকরা আগে থেকেই ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। উৎপাদক দেশগুলো সে নীতিতেই অটল আছে। মাঝে আমিরাতের পদত্যাগের বিষয়ে এমন নীরবতা দেখাচ্ছে, যেন কিছুই ঘটেনি।
কাগজে-কলমে তেলের উৎপাদন কোটা বাড়ানো হলেও বাস্তবে এর প্রভাব খুব একটা পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ওপেক প্লাস জোটের তেলের মজুত মূলত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত। এই অঞ্চলের তেল রপ্তানি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে আটকে আছে।
হোর্হে লিওন বলছেন, ওপেক প্লাস মূলত বিশ্বকে একটি দ্বিমুখী বার্তা দিতে চাইছে। প্রথমত, আমিরাতের জোট ত্যাগ কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের কারণে তেল বাণিজ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারে জোটের নিয়ন্ত্রণ অটুট আছে। কিন্তু বাস্তবতা সবাই জানে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কাগুজে উৎপাদন বৃদ্ধির তেমন কোনো গুরুত্ব নেই।
- বিষয় :
- তেল
- উৎপাদন
- রাশিয়া
- সৌদি আরব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
