ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে এবার যুক্তরাষ্ট্রের এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক

যুদ্ধ বন্ধে এবার যুক্তরাষ্ট্রের এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওই স্মারকে ১৪ দফা প্রস্তাব রয়েছে, যার ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো হবে। পরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একটি সূত্র এবং এ সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূর এগিয়েছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের সূত্রটি জানায়, ‘আমরা খুব শিগগির এটি (সমঝোতা স্মারক) চূড়ান্ত করব। কাছাকাছি চলে এসেছি।’

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা মার্কিন সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি বিবেচনা করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান কেবল ‘সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চুক্তি’ মেনে নেবে। গতকাল বুধবার আরাঘচি চীন সফরে গেছেন। আলজাজিরা জানায়, সেখানে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আগামী ১৪ ও ১৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশটিতে পৌঁছলেন। সফরকালে আরাঘচি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চলমান পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী হবে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এম-টি হাসনা নামের ট্যাঙ্কারটি মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরানের বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পোস্টটিতে বলা হয়, বারবার সতর্ক করার পর মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালায়। তারা লিখেছে, ‘হাসনা আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না। ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মিনাবে দেড় শতাধিক ‍শিশু হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এরপর এ লড়াই শুরু হলে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন, যা যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

সম্ভাব্য চুক্তির খবর বিশ্বব্যাপী তেলের দামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ওয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৯৮ ডলার। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। বিশ্বব্যাপী লাফিয়ে বেড়েছে শেয়ারের দাম।

শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য তিন দিন ধরে চলা একটি নৌ অভিযান স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টা পরই এ সমঝোতা স্মারকটি প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প ওই অভিযানের নাম দিয়েছিলেন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম।’ ইরান বলছে, যেহেতু মার্কিন ‘হুমকি’ আর নেই; তাই তারা যে নতুন শর্তাবলি স্থাপন করছে, তার অধীনে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান যাতায়াত করতে পারবে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৪ দফা প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র জানায়, মার্কিন আলোচনাটি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সূত্রটি আরও জানায়, যদি উভয় পক্ষ প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। ওই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ ইরানের তহবিল ছাড়, হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে।

তবে অতীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বিভিন্ন দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় সমঝোতার খবর কতটা সঠিক, জানা যাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া থেকে। আলজাজিরা জানায়, এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই। তিনি বলেন, স্মারকে যেসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে, তাতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভিলাষের তালিকাই রয়েছে। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, মুখোমুখি আলোচনায় মার্কিনিরা যা অর্জন করতে পারেনি, একটি ব্যর্থ যুদ্ধে তারা তা অর্জনে সক্ষম হবে না। 

চুক্তিতে সম্মত না হলে বোমাবর্ষণের হুমকি ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার ইরানকে আবারও কঠোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে আগের চেয়েও বেশি তীব্রতায় হামলা পুনরায় শুরু করা হবে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা রাজি না হয়, তাহলে বোমাবর্ষণ শুরু হবে। দুঃখজনকভাবে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা ও তীব্রতায় হবে।’

ট্রাম্প এ-ও বলেন, যদি ইরান পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে, তবে ‘ইতোমধ্যে কিংবদন্তিতুল্য এপিক ফিউরির (ইরানে সামরিক অভিযান) অবসান ঘটবে এবং অত্যন্ত কার্যকর অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’ 

আরও পড়ুন

×