বিধানসভা নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৪, আটক সহস্রাধিক
শুভজিৎ পুততুণ্ড, কলকাতা
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির দুজন করে কর্মী রয়েছেন। সহিংসতা থামাতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের তিন জওয়ান।
গত সোমবার নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সহিংসতা বাড়তে থাকে। ওই দিন কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন চব্বিশ পরগনা জেলার নিউটাউনে বিজেপির বিজয় মিছিলে হামলা চালিয়ে এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। নিউটাউন থানা এলাকার বালিগুটিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।
সহিংসতায় দুই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীও নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার বেলেঘাটায় নিহত হন তৃণমূল কংগ্রেসকর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক। তিনি তৃণমূল বুথ এজেন্ট ছিলেন। বীরভূম জেলার নানুর সন্তোষপুরে আরেক তৃণমূল কংগ্রেসকর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আবির শেখকে বিজেপির কর্মীরা রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাদের তিন থেকে চারশ দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলা হয়েছে ১৫০ প্রার্থীর বাড়িতে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, সহিংসতা-ভাঙচুরে তাদের কোনো কর্মী জড়িত নন। তিনি সহিংসতা বন্ধের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি কোথাও ভাঙচুর-সহিংসতার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বলেছেন।
কে হচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী
ভোটে বড় জয়ের পর এখন প্রশ্ন, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী? বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আছেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও। সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার কোনো হোটেলে একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানেই জানা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম।
পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক নাম চর্চায় থাকলেও পাল্লা কার ভারী, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না বিজেপির কোনো শীর্ষ নেতা। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ৯ মে শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
- বিষয় :
- বিধানসভা ভোট
