সমালোচনার পর বিশেষ দায়িত্ব থেকে জ্যোতিষীকে সরিয়ে দিলেন বিজয়
জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেল এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২১:৫৩
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার একটি নাটকীয় আস্থা ভোটে জয়লাভ করে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। তবে এই জয়ের আবহে নতুন বিতর্ক তৈরি হয় যখন জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (রাজনৈতিক) বা ওএসডি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বুধবার সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিল করে বিজয়ের সরকার। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পাশাপাশি তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দল ভিসিকে-ও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। ভিসিকে তাদের দুটি আসন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ভেট্রিভেলই বিজয়ের রাজনৈতিক জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তার পরামর্শেই বিজয় শপথ গ্রহণের সময়সূচি পরিবর্তন করেছিলেন।
তবে টিভিকের পক্ষ থেকে দলটির নেতা নির্মল কুমার বলেছেন, ভেট্রিভেল মূলত একজন মিডিয়া মুখপাত্র বা হ্যান্ডলার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত পেশা এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
তবে মিত্রদের সমর্থন হারানো এবং চারদিক থেকে প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত টিভিকে এই নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিরোধীপক্ষের ডিএমডিকে প্রধান প্রেমলথা বিজয়কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ভেট্রিভেলের নিয়োগের বিপক্ষে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি হিসেবে একজন জ্যোতিষীর নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানাই। আপনি যুবসমাজের কাছে কী বার্তা দিতে চান? তিনি যদি আপনার জ্যোতিষী হয়ে থাকেন, তবে তাকে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবেই রাখুন।’
পাঁচটি আসন দিয়ে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়া কংগ্রেসও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল বলেন, ‘এটা আমার মাথায় ঢুকছে না। একজন জ্যোতিষীর কেন ওএসডি পদের প্রয়োজন হবে?? কেউ কি ব্যাখ্যা করতে পারেন।’
তবে, এই নির্বাচনে মাত্র একটি আসন জেতা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দৃশ্যত বিজয়ের পক্ষেই ছিল, যদিও ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত টিভিকে প্রধান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে গেরুয়া দলের সাথে তাদের কোনো সখ্যতা নেই। এমনকি তিনি বিজেপিকে তার ‘আদর্শিক শত্রু’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।
জ্যোতিষী ভেট্রিভেলের সাথে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে. জয়ললিতারও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার শাসনামলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এই জ্যোতিষীর পরামর্শে নেওয়া হতো বলে জানা যায়। তবে আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় জয়ললিতার সাজা হবে না—এই ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।
- বিষয় :
- তামিলনাড়ু
- মুখ্যমন্ত্রী
- থালাপাতি বিজয়
