ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডে কড়াকড়ি, দেশে ফিরতে হবে সাময়িক ভিসাধারীদের

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডে কড়াকড়ি, দেশে ফিরতে হবে সাময়িক ভিসাধারীদের
×

নতুন নীতির কারণে অনেক দুর্বল অবস্থায় থাকা অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ১০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ১০:৫০

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে-এমন নতুন নীতিগত অবস্থান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও সুশৃঙ্খল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) নতুন নির্দেশনায় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন বা 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং গ্রিনকার্ড পেতে চান, তাঁদের আবেদন করতে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইনের 'ফাঁকফোকর' ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার প্রবণতা ঠেকাতেই এ নীতি নেওয়া হয়েছে।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত এমনভাবে তৈরি, যাতে অস্থায়ী ভিসাধারীরা নির্ধারিত কাজ শেষে নিজ দেশে ফিরে যান। তবে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্য হবে না।

অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদন মূল্যায়নের সময় ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, অনুমতি ছাড়া কাজ করা, জালিয়াতি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দেওয়া শর্ত মেনে চলা হয়েছে কি না-এসব বিষয় কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, 'ডুয়াল ইনটেন্ট' সুবিধাপ্রাপ্ত কিছু ভিসা ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার চেষ্টা করা আইনত বৈধ। যদিও এসব ভিসা গ্রিনকার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

এদিকে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, অনেক আবেদনকারীকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হতে পারে। বিশেষ করে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত শিশু ও আশ্রয়প্রার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

অলাভজনক সংস্থা এইচআইএএস বলেছে, নতুন নীতির কারণে অনেক দুর্বল অবস্থায় থাকা অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে প্রচেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চালিয়ে যাচ্ছে, এটি তারই অংশ। এর আগে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কিছু ভিসার মেয়াদ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
 

আরও পড়ুন

×