ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে বিপাকে মোদি সরকার

ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে বিপাকে মোদি সরকার
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১২:৫৩ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৫

ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক গ্রাম থেকে শুধু ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে এসেছিল ১৭ বছর বয়সী সৌরভ কুশাওয়াহা। শনিবার তাকে ও তার ভাইকে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিজিৎ দীপকের আসার অপেক্ষায় বিক্ষোভস্থলের রাস্তায় ফুটপাতে বসে থাকতে।  

ভারতের তরুণদের মধ্যে প্রশ্ন ফাঁস, বোর্ড পরীক্ষায় নম্বর মূল্যায়নে ত্রুটি ইত্যাদি নানা ইস্যুতে ক্ষোভ বাড়ছে। দেশটির ১৪০ কোটি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকরই বয়স ২৫ বছরের নিচে। তাদের অনেকেই ক্ষমতাসীন বিজেপি বাদে ভিন্ন কোনো সরকার দেখেননি। সমালোচকরা বলছেন, বিজেপি সরকার ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা শুরু করেছে এবং ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত একাধিক গণতন্ত্র সূচকে পিছিয়ে পড়ছে। এসবের মধ্যেই দেশটিতে বেড়েছে বেকারত্ব। অনেকেই কম বেতনের চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই তরুণরা এখন একাট্টা হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে। অথচ মাসখানেক আগেও দলটির অস্তিত্ব ছিল না। 

শনিবার দীপকে ও শত শত বিক্ষোভকারীর পক্ষ থেকে একটি দাবিই ছুড়ে দেওয়া হয়– শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করুন। জনতার উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘মোদি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি– শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করুন, আর না হলে আমরা এখান থেকে নড়ব না।’ আন্দোলনের পরও সিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বা তাঁকে না সরানো হলে, ভারতজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে। গতকাল এক্সে এক পোস্টে দীপকে লিখেছেন, ‘গতকাল হাজারো মানুষ ইতিহাস গড়েছে। যন্তর মন্তরে আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সরকারকে একটি ট্রেইলার দেখিয়েছে যে, তেলাপোকারা এক হলে কী ঘটতে পারে।’ 

মোদি সরকারের ওপর প্রভাব

সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে অনেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় হয়ে যাওয়া জেন-জি বিক্ষোভের মিল পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালে সরকারই বদলে গেছে এ ধরনের আন্দোলনের জেরে। সম্প্রতি ভারতের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে মোদির অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে পেরেছে বিজেপি। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বাইরে নিজেদের ক্ষমতার বলয় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্য এখন মোদি ও তাঁর মিত্রদের দখলে। নতুন শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে মোদি সরকারের রাতারাতি পতন না ঘটলেও এটি তাঁর ক্ষমতার রাশকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

মার্কিন বাণিজ্য সাময়িকী ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণ বলছে, জেন-জি ভোটাররা এখন ভারতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছেন। তরুণদের কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ফুঁসতে থাকাটা ভোটের মাঠের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাদের বয়স ও চিন্তাভাবনার ব্যবধানও রয়েছে। এটিও প্রভাব ফেলছে গোটা হিসাবে।

আরও পড়ুন

×