ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্স

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন তৈরি গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। নতুন এই শুল্ক আগামী ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রণীত এই ধারার মাধ্যমে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবারই প্রথম শুল্ক আরোপ করলেন।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, হকি স্টিক, সুইমিং পুল, আসবাব, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বীজ, পোশাক ও উইগসহ নানা ভোগ্যপণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় আমদানির ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে মোট ৩৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। নতুন শুল্ক সেই আমদানির প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশের ওপর কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্যান্য অংশীদার দেশের তুলনায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সুরক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে তার সরকার ইতিমধ্যে বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। তার দাবি, অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) লঙ্ঘন করেছে।

এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। বাকি থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে পারস্পরিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ এমনভাবে তৈরি হয়েছিল, যাতে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি অনুসরণ করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এতদিন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি ব্যবহার করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা জন ভেরোনো বলেন, অতীতে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট এ ধারা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করলেও বাস্তবে কখনো তা প্রয়োগ করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রতিশোধমূলক শুল্কের জবাবে আবার এই আইন ব্যবহার করা আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ইউএসএমসিএর আওতায় থাকা ছাড়প্রাপ্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা কিছু পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কানাডার দুগ্ধ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন গাড়ির ওপর শুল্ক ও কোটা এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়গুলোও নতুন শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক বছরে কানাডায় মার্কিন মোটরযান আমদানি ২২ শতাংশ এবং মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্যের আমদানি ৮১ শতাংশ কমেছে।

তবে সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উপদেষ্টা ডায়মন্ড ইসিঙ্গার বলেন, বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মূলত সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক সরকারের হাতে।
 

আরও পড়ুন

×