ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার সেই ‘প্রতিশোধের পোশাক’

নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার সেই ‘প্রতিশোধের পোশাক’
×

ছবি: গেটি ইমেজেস

বিবিসি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪০

প্রিন্সেস ডায়ানার পরা বিখ্যাত কালো পোশাক ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ (প্রতিশোধের পোশাক) এবার নিলামে উঠছে। ১৯৯৪ সালে লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির এক অনুষ্ঠানে পরা এই কাঁধখোলা কালো সিল্কের পোশাকটি ডায়ানার জীবনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ওই অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে তার তৎকালীন বিচ্ছিন্ন স্বামী প্রিন্স চার্লস বিবাহিত জীবনে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। সেই রাতেই ডায়ানার নাটকীয় উপস্থিতি পোশাকটিকে পপ-কালচারের অন্যতম আইকনিক প্রতীকে পরিণত করে।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিস আশা করছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর পোশাকটি সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ১৯৯৭ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ডায়ানা নিজেই তার ৭৯টি পোশাক বিক্রি করেছিলেন। এরপর এই প্রথমবার পোশাকটি আবার নিলামে উঠছে।

সোথবিসের হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান মরগ্যান হালিমি বলেন, ডায়ানা বুঝতে পেরেছিলেন ফ্যাশনও একটি শক্তিশালী ভাষা হতে পারে। নিজের পোশাক নির্বাচনের মাধ্যমে জীবনের আলোচিত এক সময়ে তিনি নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিলেন।

সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজের দিনই আইটিভিতে একটি তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়। সেখানে প্রিন্স চার্লস স্বীকার করেন, তিনি ডায়ানার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না। যদিও এ নিয়ে বহু বছর ধরে গুঞ্জন ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল। সাক্ষাৎকারটির বিষয়বস্তু সম্প্রচারের কয়েক দিন আগেই ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ওই রাতের অনুষ্ঠানে ডায়ানার উপস্থিতিকে অনেকেই তার স্বামীর বক্তব্যের জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।

ডায়ানার তৎকালীন স্টাইলিস্ট অ্যানা হার্ভে জানিয়েছিলেন, রাজকুমারী সেদিন অসাধারণ ও আকর্ষণীয় দেখাতে চেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঠিক আগে পোশাকের সিদ্ধান্তও বদলে ফেলেন তিনি। ভ্যালেন্টিনোর একটি সাধারণ গাউন বাদ দিয়ে গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের তৈরি কাঁধখোলা পোশাকটি বেছে নেন। পোশাকটির নিচের অংশ ছিল অসম এবং পেছনে ছিল শিফনের দীর্ঘ ট্রেন। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন রাজকীয় নেকলেস, কালো ক্লাচ ব্যাগ ও কালো হিল।

নিলামে ওঠার আগে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টি বিশ্বজুড়ে প্রদর্শন করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে সোথবিসের শোরুমে এটি প্রদর্শিত হবে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে হংকং ও নভেম্বরের শুরুতে জেনেভায় প্রদর্শনের পর পোশাকটি নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানেই নিলামে এটি বিক্রি করা হবে।

পোশাকটি এর আগে ডায়ানাই নিলামে তুলেছিলেন। ক্যান্সার ও এইডস নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহে ১৯৯৭ সালে বিক্রি করা কয়েক ডজন পোশাকের মধ্যে এটিও ছিল। সে সময় গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রায়েম ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ডে, অর্থাৎ প্রায় ৬৪ লাখ ৫১ হাজার টাকায় পোশাকটি কিনেছিলেন।

তখন ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’কে ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি বলেছিলেন, পোশাকটি পরার জন্য তারা কেনেননি। ‘চিলড্রেন ফার্স্ট’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তারা এটি কিনেছিলেন। তিনি মজা করে বলেছিলেন, পোশাকটি তার গায়ে হবে না।

বৃহস্পতিবার সোথবিসের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাকেঞ্জি বলেন, তিনি ও তার প্রয়াত স্বামী জানতেন পোশাকটি বিশেষ কিছু। ডায়ানা তখন জীবনের ভয়াবহ এক রাতের দিকে এগোচ্ছিলেন, অথচ তাকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। ছবি তোলার অল্প সময়ের মধ্যেই পোশাকটি সাধারণ ককটেল ড্রেস থেকে একটি অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়।

ম্যাকেঞ্জি আরও বলেন, তিন দশক পরও বিশ্বের যেকোনো জায়গায় এই পোশাকের কথা বললে মানুষ বুঝতে পারে কোন পোশাকটির কথা বলা হচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পোশাকটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে নিলামে অংশ নেওয়ার সেই দিনটিকে তিনি তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্যতম সেরা দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সোথবিস জানিয়েছে, পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নিলামের একটি দুর্লভ ক্যাটালগও বিক্রি হবে। ডায়ানা ও ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের স্বাক্ষর করা ওই ক্যাটালগে উল্লেখ রয়েছে, পোশাকটি নিলামে তোলার ধারণা দিয়েছিলেন ডায়ানার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম।

এবারের বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটি অংশ এনএইচএস লোথিয়ান চ্যারিটির মাধ্যমে রয়্যাল এডিনবরা হাসপাতালকে দেওয়া হবে।

সার্পেন্টাইন গ্যালারির ওই অনুষ্ঠানে ডায়ানা যে ভিনটেজ জাগুয়ার এক্সজে৪০ গাড়িতে চড়ে এসেছিলেন, সেটিও চলতি বছরের শুরুর দিকে নিলামে বিক্রি হয়েছে। গাড়িটির দাম উঠেছিল ৬৬ হাজার ২৫০ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।

ডায়ানার পোশাক নিলামে চড়া দামে বিক্রির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে সোথবিসের নিলামে তাঁর একটি কালো ভেড়ার নকশার সোয়েটার ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ছিল প্রায় ১৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এবার ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন

×