ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

কানাডায় ফের জনসংখ্যা বাড়াতে চান কার্নি, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে

কানাডায় ফের জনসংখ্যা বাড়াতে চান কার্নি, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে
×

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১৩ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪৯

কানাডায় অভিবাসন কমিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এবার আবার ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে দেশটির জনসংখ্যা আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ানো শুরু করা হবে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি এ কথা বলেন। তবে তিনি নতুন করে কতসংখ্যক অভিবাসী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেননি। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে কানাডার ২০২৭-২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনাতেই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

কার্নির এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন কানাডায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন। বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯১৫-১৬ সালের পর এটিই জুলাই থেকে জুলাই হিসাবে কানাডার সবচেয়ে কম বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার।

একই সময়ে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৫ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

কানাডার সরকার গত কয়েক বছর ধরে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানো এবং স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার হার মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের।

সরকারের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ কমানোই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।

এখন প্রধানমন্ত্রী কার্নির সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আবার বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

কানাডার আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারকে প্রতিবছর পরবর্তী কয়েক বছরের অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে হয়। ২০২৬-২০২৮ সালের বর্তমান পরিকল্পনাতেও বলা হয়েছিল, পরবর্তী বছরের লক্ষ্যগুলো প্রতিবছর ১ নভেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত বা পরিবর্তন করা হবে।

সে হিসাবে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭-২০২৯ সালের নতুন ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান’ প্রকাশ হওয়ার কথা। এতে স্থায়ী বাসিন্দা এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

অভিবাসন নিয়ে কানাডার সরকারের এই পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। সিডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসনবিষয়ক কাউন্সিল আগামী কয়েক বছর অভিবাসনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখার বিষয়ে সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে কার্নির বক্তব্য ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আবার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কানাডার অর্থনীতিতে শ্রমশক্তির চাহিদা, জনসংখ্যার বয়স কাঠামো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি অভিবাসন নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনাতেও অর্থনীতির প্রয়োজন ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন ব্যবস্থাকে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এতটাই কমেছে যে আগামী পরিকল্পনায় সরকার কীভাবে অভিবাসনের মাত্রা নির্ধারণ করে, সেদিকে নজর থাকবে।

কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর তাই আগামী নভেম্বরের অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে কানাডা আগের মতো কমানোর পথে থাকবে, নাকি নিয়ন্ত্রিতভাবে অভিবাসন বাড়িয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি পুনরায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে-তার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
 

আরও পড়ুন

×