বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জাহাজ থেকে উদ্ধার করা নাবিকদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২৪
বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত ১১ নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজ ডুবির এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এ নিয়ে বুলগেরিয়া রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে নাবিক নিখোঁজ
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে একটি ডুবে যায়। বুলগেরিয়া সরাসরি রাশিয়াকে হামলার জন্য দায়ী করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, এ ঘটনার ফলাফল ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের অনুকূলে’। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রাদেভ বলেন, ‘এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য—বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক কাছেই আরেকটি হামলা।’
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আরেকটি রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে বলেন, এ হামলা ‘আবারও প্রমাণ করে যে বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি মস্কোর ইচ্ছাকৃত কোনো তোয়াক্কা নেই’।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষ্ণ সাগর একটি জীবনরেখা। রাশিয়া ক্ষুধা ও খাদ্যাভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বকে জিম্মি করার লক্ষ্যে এ অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রাপেটস গ্রামের উপকূলের কাছে ডুবে যাওয়া জাহাজটি থেকে পাঁচজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুলগেরীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির নাম ‘আজভ কনকর্ড’। এটি একটি পণ্যবাহী জাহাজ। তুরস্কভিত্তিক জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা আরও জানান, মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি ৩’ নামের আরেকটি জাহাজও রাতের আঁধারে তিনটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটির সাতজন ইউক্রেনীয় ও আটজন আজারবাইজানি নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কেউ গুরুতর আহত হননি।
এর এক সপ্তাহ আগে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ডুবে যাওয়া আরেকটি জাহাজের নয়জন সিরীয় ও একজন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন। ওই রাতেই আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হলেও সেটির নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচল ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই দেশই বিশ্বের প্রধান শস্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলোতে নিয়মিত বোমা হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেন দানিউব নদীর বন্দর এবং ন্যাটো সদস্য দেশ বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার উপকূলের কাছাকাছি নৌপথের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও কৃষ্ণ সাগরের অন্যান্য অংশে এবং ডন নদীর মোহনায় অবস্থিত আজভ সাগরে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।