সৌদি-হুতি সংঘাত অব্যাহত
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
সৌদি যেতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক বাংলাদেশিকে
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
আবারও হুতিদের হামলার কবলে পড়ার দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল শুক্রবার জানায়, তারা রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চল ও রিয়াদের আকাশে তিনটি ড্রোন এবং লোহিত সাগরের ওপর দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করেছি।’ তিনি আরও জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় ইয়ানবুর আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির সরকারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এতে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারি সামরিক সূত্র।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এক সাংবাদিক প্রাসাদ এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদরদপ্তর হিসেবেও ওই প্রাসাদ ব্যবহৃত হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় পুলিশের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ‘হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র আল-মাশাইক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আঘাত হেনেছে।’
হুতিদের হাতে আধুনিক অস্ত্র
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি হুতিদের সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের। জোটের বিবৃতিটি তাদের সতর্কতার সঙ্গে পড়া উচিত, এমনকি বিবৃতির অন্তর্নিহিত বার্তাও বুঝতে হবে।’
আল-মালকি বলেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহায়তায় হুতিরা উন্নত প্রযুক্তি অর্জন করেছে। এর ফলে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হামলা ও আত্মঘাতী ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান সংগ্রহ করতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এমন দায়িত্ব তৈরি করেছে, যাতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয়।’
সৌদিতে সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
এদিকে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সহায়তা দিতে একটি চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু করেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভরো এ কথা জানান।
সৌদি আরবে কী ধরনের সরঞ্জাম বা সক্ষমতা পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। গত মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছিলেন, সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরনগরী রক্ষায় ফ্রান্স সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে।
সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত
ব্রিটেনের কাছ থেকে সৌদি আরবের কেনা একটি ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুতগতিতে বিমানের দিকে ধেয়ে যাওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরে যায়।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অস্ত্র চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের কেনা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে ইউরোফাইটার টাইফুন অন্যতম। ‘প্রজেক্ট সালাম’ নামে একটি চুক্তির অধীনে ৭২টি যুদ্ধবিমান কেনা হয়েছিল। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৪৩ কোটি পাউন্ড।
গন্তব্যে পৌঁছতে বাংলাদেশিদের বিকল্প পথ ব্যবহার
এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করছে। গতকাল শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদির রিয়াদগামী এমনই একজন যাত্রী এ কথা জানান।
বিমানবন্দরে রাসেল নামে এই যাত্রী জানান, তাঁর আরও দুই সপ্তাহ ছুটি আছে। কিন্তু সৌদির রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে তাঁর কফিল (মালিক) বলেছেন ছুটি শেষ না করেই বিকল্প পথে দ্রুত কর্মস্থলে আসার জন্য। তিনি বলেন, আমার টিকিট কাটা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের। কিন্তু এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সৌদির কর্মস্থলের কফিলের কথায় ওই টিকিট পরিবর্তন করে একই এয়ারলাইন্সের মদিনাগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনা শুধু এক রাসেলের না, একই রকম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন অন্য সৌদি প্রবাসীরাও।