পাহাড় ও মানুষ
স্বপ্নের পথে...
লেন্সের পেছনের কথা
মেরা পিক, হিমালয়
মাহমুদ রানা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেরা পিক অভিযানে যত গ্রামে রাত কাটিয়েছি, সবার আগে মনে পড়ে কোঠের কথা। হিনকু উপত্যকার ছোট্ট গ্রাম। লজের ঠিক পেছনে পাহাড় থেকে নেমে আসা ভয়ংকর সুন্দর এক নদী। মানুষগুলোর আতিথেয়তায় কোনো খাদ নেই। দশ বছর কেটে গেছে, তবু কোঠের দিনগুলো ভুলিনি। দিনভর উঁচুতে হাঁটার পর রাতে ভাত আর মহিষের মাংসের ঝোল। সেই স্বাদ এখনও জিভে লেগে আছে।
আমরা পাঁচ বন্ধু। উপল ভাই, আসিফ ভাই, রিফাত ভাই, সাজ্জাদ ভাই আর আমি। একসঙ্গে পাঁচজনের এটাই প্রথম অভিযান। হাসি, ক্লান্তি, খিদে, ঠান্ডা আর একে অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে টানা উনিশটা দিন। জীবনের সেরা দিনগুলোর কয়েকটা। কোঠে ছাড়তে কারও মন চাইছিল না। ছাড়তে তো হবেই। ভোরে ব্যাগ কাঁধে তুলে গ্রামটাকে কথা দিলাম, শিগগিরই ফিরব। পরের গন্তব্য তাংনাং, তারপর মেরা। প্রায় ২১ হাজার ফুট উঁচু মেরা নেপালের ট্র্যাকিং পিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু।
সকাল থেকে মেঘে সব ঢাকা। সামনের পাথুরে পথ ছাড়া কিছু চোখে পড়ে না। একজনের পেছনে আরেকজন, নিঃশব্দে হাঁটছি। হঠাৎ কোনো জানান না দিয়ে মেঘ সরে গেল একপাশে। সামনে দাঁড়িয়ে কুসুম কাঙ্গুরু। এত কাছে, এত বিশাল যে কয়েক মুহূর্ত কারও মুখে কথা সরল না। ছবিটা ঠিক সেই মুহূর্তের।
সেরা জিনিসগুলো বোধহয় সেখানেই লুকিয়ে থাকে, যেখানে আমরা সবচেয়ে কম আশা নিয়ে যাই। কোঠের মতো, কুসুম কাঙ্গুরুর মতো।
তাই সুযোগ পেলে সবচেয়ে কম মাড়ানো পথ বেছে নিই। এমন মুহূর্তের টানে পাহাড়ে বারবার ফিরে যাই।
- বিষয় :
- হিমালয়
- পর্বতারোহণ
- আলোকচিত্র