ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড় ও মানুষ

উচ্ছল ইয়াংজি ডোকা শেরপা

লেন্সের পেছনের কথা

উচ্ছল ইয়াংজি ডোকা শেরপা
×

প্যাংবোচে গ্রাম, হিমালয়

বাবর আলী

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামের নাম প্যাংবোচে। মাথার ওপর আকাশজুড়ে একটাই পর্বত, আমা দাবলাম। উচ্চতা ২২ হাজার ৩৪৯ ফুট। হিমালয়ে এর চেয়ে ঢের উঁচু চূড়া আছে। আরোহণের কাঠিন্য আর গড়নের সৌন্দর্যে আমা দাবলামের জুড়ি মেলা ভার। শেরপা ভাষায় নামটির মানে ‘মায়ের গলার হার’। দুপাশে ছড়ানো শিরা যেন মায়ের দুই বাহু, বুকের কাছে ঝুলে থাকা হিমবাহ যেন লকেট।

পর্বতে ওঠার পথেই প্রায় চার হাজার মিটার উঁচু প্যাংবোচেতে থামা। উঠেছি সানরাইজ লজে। লজের মালকিনের ছোট মেয়ে বছর ছয়েকের ইয়াংজি ডোকা শেরপা। পড়ে কাঠমান্ডু উপত্যকার এক বোর্ডিং স্কুলে। ছুটিতে বাড়ি এসেছে। সেদিন লজে অতিথি বলতে আমরা আর সুইজারল্যান্ডের এক দম্পতি। ভাঙা নেপালি আর ইংরেজিতে ইয়াংজির সঙ্গে ভাব হতে দেরি হলো না। শেরপাদের মুখে দাড়ি-গোঁফ তেমন থাকে না। আমার আবার মুখভর্তি দাড়ি। তাতেই ওর যত কৌতূহল। কয়েকবার লাফিয়ে দাড়ি টেনে দেখল, আসল তো?

ব্যাগে ছিল একটা ম্যাংগো বার। সেটা পেয়ে বন্ধুত্ব জমে গেল পাশের চূড়ার বরফের মতো। খানিক পরেই হাত ধরে নিয়ে গেল স্টোররুমে, নিজের সব খেলনা দেখাতে। বিকেলে ঘরের পাশের এক চিলতে আলু-মটরের খেতে খেলতে গেল। সেখানেও সঙ্গী আমি। রাতে শেরপাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নেচেও দেখাল।

ছবিটা তোলা বেসক্যাম্পের পথে রওনা দেওয়ার সময়। পাশে ওর খেলার সাথি। ক্যামেরা তাক করতেই আলো ঝলমলিয়ে উঠল ইয়াংজির চোখেমুখে। হিমালয়ে যাই মূলত আকাশছোঁয়া পাহাড়ের টানে। কিন্তু পাহাড়ের পায়ের কাছে যারা থাকেন, তাদের মনও যে পাহাড়ের মতোই উঁচু, সে খবর কজন রাখে! সেই উষ্ণতার ছোঁয়া পেতে বারবার পাহাড়ে ফিরি।

আরও পড়ুন

×